মেইন ম্যেনু

প্রবীণ হাসপাতাল: সবই আছে, নেই শুধু রোগী!

নামে প্রবীণ হলেও সব বয়সী রোগীদের চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ আছে আগারগাঁওয়ের প্রবীণ হিতৈষী হাসপাতালে। আছে জরুরি বিভাগ। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা, অস্ত্রপচারের ব্যবস্থা। নামমাত্র দামে পাওয়া যায় সাধারণ বেড ও কেবিন। কিন্তু অনেকেরই বিষয়টি জানা নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রচারণা না থাকায় এমন অবস্থা। তবে তারাও চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিভাবে হাসপাতালটির কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। এজন্য মাঝে মাঝে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ পরিসরে করা যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত হয় হাসপাতালটি।

সংঘের মহাসচিব এ এস এম আতিকুর রহমান বলেন, “অনেকে হাসপাতালটির নাম দেখে মনে করে এটি শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্য। কিন্তু এটা মূলত একটা জেনারেল হাসপাতাল। সব বয়সের মানুষের এখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ আছে। প্রচারণার অভাবে সবার এই ধারণা জন্মেছে।”

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারের পক্ষ থেকে বার্ষিক সাড়ে তিন কোটি টাকা দেয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এর বাইরে সংঘের সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া দানের টাকায় প্রবীণদের নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি চলছে।

সারাদেশে সংঘের আরও ৫৮টি শাখা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এই বরাদ্দ থেকে একটি অংশ শাখাগুলোর জন্য দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন আতিকুর রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মেডিসিন, জেরিয়েট্রিক মেডিসিন, কার্ডিওলজি, ইএনটি, সার্জারি, ফিজিওথেরাপি, অর্থোপেডিকস, ডায়াবেটিক, গাইনি, চর্ম, ডেন্টাল ও আয়ুর্বেদিক বিভাগে কনসালটেন্টসহ মেডিকেল অফিসাররা নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে এখানে।

এর কারণ হিসেবে অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, অর্থের অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়াও বহির্বিভাগে এসব শাখায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রবীণ রোগীদের খরচ হয় মাত্র ১৫ টাকা ও অন্যান্য বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ৪০ টাকা। আর গরিব রোগীদের জন্য হাসপাতালে অনেকটা বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

স্বল্পমূল্যে রোগী ভর্তির ব্যবস্থাসহ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে প্রবীণ হাসপাতালে। তবে এখানেও অর্থের সংকট। যে কারণে এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি কেনা যাচ্ছে না বলে জানালেন সংঘের মহাসচিব।

৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে সাধারণ বেডের দৈনিক চার্জ ১৫০টাকা। আর কেবিন পাওয়া যায় ৮০০ টাকায়। দুটি ফ্রি বেড আছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই বেডগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালটিতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গোটা হাসপাতালে অল্প কিছু রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় রয়েছেন। কোথাও আবার চিকিৎসকের রুম তালাবদ্ধ।

যদিও বহির্বিভাগের কাউন্টারে দায়িত্বরত দুজন নারীকর্মী জানালেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ টিকিট বিক্রি হয়।

৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে দুটি পুরুষ ওয়ার্ড ও দুটি মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু ওইদিন সব মিলে মোট রোগী ভর্তি ছিলেন আটজন।

ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ওয়ার্ড খালি পড়ে আছে।

পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেন একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া গড়ে আট থেকে ১২ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

এদিকে চিকিৎসক সংকটের কারণে দিনে এক বেলা অর্থাৎ বিকালে রোগী অপারেশন করা হয়। সকালে কোনো রোগী এলে তাদেরকে বিকালে অপারেশনের জন্য সময় বলে দেয়া হয়।

চিকিৎসক সংকটসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. কাহফুল ওয়ারা বলেন, “চিকিৎসক সংকট যে নেই তা নয়, তবে মোটামুটি সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকার পরও এখানে রোগী আসে না। আসলে প্রচারণা কম। তবে আপনাদের (সাংবাদিকদের) আমরা পাশে চাই।”

তিনি জানান, হাসপাতালটিতে একজন কনসালটেন্ট রেগুলার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাক, কান ও গলা বিভাগে একজন। হৃদরোগ বিভাগে একজন, গাইনি ও সার্জারি বিভাগে দুইজন কনলাসটেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, “সরকার আর একটু সুদৃষ্টি পেলে এবং প্রচারণা থাকলে হাসপাতালটিতে সব বয়সী রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়া সম্ভব।”

এদিকে হাসপাতালটির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আবদুর রহমান সরকার বলেন, “আমরা সাধ্যের মধ্যে হাসপাতালটি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে থাকি। বিভিন্ন দিবসে সভা-সেমিনার আয়োজন হয়। তবে মানুষের কাছে হাসপাতালটির কথা পৌঁছে দিতে আমরা গণমাধ্যমকে পাশে চাই।”






মন্তব্য চালু নেই