মেইন ম্যেনু

প্রমাণ হাতেই, তবু পুলিশ প্রতিবেদনে বিলম্ব

সব তথ্য প্রমাণ হাতেই আছে, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিও। তবুও সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে প্রতিবেদন দিচ্ছে না পুলিশ।

সিলেটের শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি বলছেন, খাদিজা যেহেতু সুস্থ হয়ে উঠছেন, সেহেতু তার জবানবন্দি নিয়েই প্রতিবেদন জমা দিতে চান তারা।

কিন্তু পুলিশের এই অবস্থানের কারণে প্রতিবেদন দিতে আরও দেরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, হামলার ১০ দিন পর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হলেও তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় কখন যাবেন, সেটি অনিশ্চিত।

খাদিজার বাবা মাসুক মিয়ার অনুরোধ, সুষ্ঠভাবে যেনো এই মামলার তদন্ত করা হয়। তিনি বলেন, ‘আসামি যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে না পারে।’

গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে শাহজালাল বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্রলীগের নেতা বদরুল আলমের কোপানোর ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরদিন থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন খাদিজা। ১০ দিন লাইফ সাপোর্ট থাকা খাদিজার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তার লাইফ সাপোর্ট পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে তাকে নিবিঢ় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

হামলার পরই বদরুলকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। আর পরদিন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুছ বাদী হয়ে নগরীর শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। তারও পরদিন বদরুল সিলেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তারখাদিজাকে দেখতে গিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে গত ৫ অক্টোবর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, খাজিদার ওপর বদরুলের হামলার তথ্য-প্রমাণ সবই আছে। এর দ্রুত বিচার করা কোনো ব্যাপার নয়।

তথ্য প্রমাণ থাকার পরও অভিযোগপত্র দিতে কেন দেরি হচ্ছে-জানতে চাইলে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি বলেন, ‘সবই আমাদের নাগালের মধ্যে। তবে আলামত ছাড়া তো আমরা অভিযোগপত্র দিতে পারি না। মামলা তো আদালতে ওঠবে, আসামিপক্ষও লড়বে, তাই প্রমাণ লাগবে। এর জন্যই অপেক্ষা করছি।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডাক্তারের প্রতিবেদনের জন্য স্কয়ার হাসপাতালে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর খাদিজা যেহেতু সুস্থ হয়ে ওঠছে, তাই তার সাক্ষ নেয়ার পরই আমরা অভিযোগপত্র দেবো, যেন আসামির সর্বোচ্চ সাজা হয়।

শাহজালাল মুন্সি বলেন, ‘ইন্সপেক্টর হারুন মামলাটি তদন্ত করছেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করছি। আর যদি খাদিজার সাক্ষী নেয়া সম্ভব না হয় তাহলে আমরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেবো’-বলেন ওসি শাহজালাল মুন্সি।

এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) বাসুদেব বণিক বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলাটির তদন্ত করছি। যাতে আসামি ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকেও মামলাটির তদারকি করা হচ্ছে।’খবর ঢাকাটাইমসের।






মন্তব্য চালু নেই