মেইন ম্যেনু

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন নীলফামারীর সেই মাংস বিক্রেতা

দুলাল হোসেন পেশায় একজন মাংস বিক্রেতা। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার ঘাতক খুনি ওবায়েদকে ধরিয়ে দিয়েছেন নীলফামারীর এই মাংস বিক্রেতা। ওবায়দুল খানকে ধরিয়ে দেয়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় বুধবার ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে।

দুলাল হোসেন ডোমার উপজেলার হরিণচড়া গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে। ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। উপস্থিত বুদ্ধি ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে একজন হত্যাকারীকে ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় দুলাল হোসেনকে নিয়ে তার এলাকার মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে তার নাম। বিশেষ করে বিভিন্ন মিডিয়া তাকে নিয়ে খবর প্রকাশের পর থেকে। তার সাহসী ভূমিকার সুবাদে প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন তিনি।

ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজারে প্রতিদিন মাংস বিক্রি করেন দুলাল হোসেন (৪৫)। দুলাল হোসেন জানান, সকালে বাজারে ওবায়েদকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে তাকে ডেকে সেখানকার একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে পরিচয় জানতে চাই। কিন্তু তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ডোমার থানায় খবর দিই। পরে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

নীলফামারীর সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওবায়েদকে সোনারায় বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন মাংস বিক্রেতা দুলাল হোসেন। তৎক্ষনাৎ তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে ডোমার থানা পুলিশ ও র‌্যাব-১৩ নীলফামারী সিপিসি-২ সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা তাকে ডোমার থানায় নিয়ে আসে।

দুলাল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি বুধবার সকালে সোনারায় বাজারে দোকান খুলতে আসেন। ওই সময় বাজারে তেমন লোকজন ছিল না। এমন সময় তিনি পাশের এক দোকানের বারান্দায় উদভ্রান্তের মতো এক যুবককে বসে থাকতে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ভ্যানে করে ওই যুবক নীলফামারীর দিকে রওনা হয়ে যায়।

তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিক সন্দেহটা দৃঢ় হয়ে ওঠে। তিনি তার মোটরসাইকেল নিয়ে ওই যুবকের পিছু ধাওয়া করেন। এরপর নীলফামারী-ডোমার সড়কের খানাবাড়ী মসজিদের সামনে থেকে তাকে আটক করে নিজের মোটরসাইকেলে তোলেন। তাকে সোনারায় বাজারে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই যুবক নিজেকে ওবায়দুল নামে পরিচয় দিয়ে জানায়, তার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মীরাটাঙ্গী গ্রামে। এতে দুলাল নিশ্চিত হন এই সেই রিশার হত্যাকারী।

দুলাল আরও বলেন, রিশা আমার মেয়ে বা বোনও তো হতে পারত। বিবেকের তাড়না থেকেই ওবায়দুলকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।

এভাবে ওবায়দুলকে আটক করে জেলার নিভৃত পল্লীর এই মাংস বিক্রেতা নিজের বিবেক ও মনুষ্যত্বের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন বলে মনে করছেন তার এলাকাবাসী। তবে সবচেয়ে বলো কথা, দেশের ও দেশের বাহিরে যাকে নিয়ে এত আলোচনা সেই দুলালের এসব নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও তিনি দোকান খুলে মাংস বিক্রি করেছেন।

তিনি যে এতো মহৎ একটি কাজ করেছেন তাতেও কোন গর্ব বা অহংকার নেই। এলাকার মানুষ তার কাছে এসে তাকে প্রশংসা করলে তিনি শুধু একগাল হাসি দিয়েই প্রতিক্রিয়া জ্ঞাপন করছেন। আর ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে যে তার সংসার, সেই সংসার চালানো জন্য নিজের পেশা অথ্যাৎ মাংস বিক্রি করে যাচ্ছেন।






মন্তব্য চালু নেই