মেইন ম্যেনু

প্রশ্নফাঁস রোধে হচ্ছে নতুন আইন, সংগ্রহকারীদেরও একই শাস্তি

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে। তা হলো ফাঁস করার সঙ্গে প্রশ্ন সংগ্রহ করাকেও একই অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। সংগ্রহকারীকেও ফাঁসকারীর মতো একই শাস্তি পেতে হবে।

পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকার নতুন যে আইন করতে যাচ্ছে তাতে এই প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটির ওপর জনমত সংগ্রহে বৃহস্পতিবার রাতে তা অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে।

তবে নতুন এই আইনে প্রশ্নফাঁসের শাস্তি না বাড়ানো নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফাঁসকারী ও সংগ্রহকোরীকে একই মানদণ্ডে বিচার করতে চাইছে সরকার। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা একে প্রহসন হিসেবে বর্ণনা করছেন।

এছাড়া, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, সে ব্যাপারে পুরোনো আইনে স্পষ্ট সংজ্ঞা দেয়া নেই। আশির দশকে এই আইনটি করা হয়েছিল।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করলে অথবা এই তৎপরতায় জড়িত থাকলে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে কেউ প্রশ্ন সংগ্রহ করে অপরাধে সহায়তা করলে তাকেও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, খসড়া প্রস্তাবে অপরাধীর সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সমালোচনা উঠেছে শাস্তির মেয়াদ নিয়ে। পুরোনো আইনে চার বছরের জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন আইনেও সর্ব্বোচ্চ চার বছরের জেল এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাশেদা কে চৌধুরীর ধারণা, এখনকার প্রেক্ষাপটে লঘু শাস্তি একটা প্রহসনে পরিণত হতে পারে। তাই শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিবেশ বা পরিস্থিতি, সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিষয় একটা ব্যাধির মতো হয়ে যাচ্ছে। কোনভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। তাতে করে এই শাস্তি একেবারে লঘু হয়ে গেছে।’

সম্প্রতি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে একদল শিক্ষার্থীর লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী সুমন হোসেন বলছিলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর হওয়া উচিৎ।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ১৯৮০ সালের আইনে দশ বছরের সাজা ছিল। বিএনপি সরকারের সময় সেই সাজা কমিয়ে চার বছর করা হয়েছে। এখন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে শাস্তি বাড়ানোর ব্যাপারে জনগণের মতামত এলে, তা তারা বিবেচনায় নেয়া হবে।

তবে এই অপরাধের ক্ষেত্রেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার করার প্রস্তাব আনার কথাও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আইন দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যার মূলে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই