মেইন ম্যেনু

প্রস্রাব পরিণত হবে বিদ্যুতে !

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার আল্যান ডোনাল্ডকে বলা হতো ‘সাদা বিদ্যুৎ’। যারা চেনেন না, তারা হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, তিনি বিদ্যুৎ বহন করতেন? আসলে তার বলের গতিময় ছন্দের কারণে তাকে ‘সাদা বিদ্যুৎ’ বলা হতো।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার প্রমান করলেন যে, মানুষ মাত্রই বিদ্যুৎ! প্রতিটি মানুষকে জৈবিক কাজের অংশ হিসেবে প্রস্রাব করতেই হয়। আর বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন এক ‘ফুয়েল সেল’ আবিস্কার করেছেন যেটি চলে প্রস্রাবে আর এই ফুয়েল সেলই উৎপাদন করে বিদ্যুৎ।

ফুয়েল সেল হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র বা ডিভাইস যা কেমিক্যাল শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ইলেকট্রিক ব্যাকটেরিয়া’। ডিভাইসটির মধ্যে এমন ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে যা কিনা প্রস্রাবে মিশে থাকা জৈব পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে আবার তা পরিবহনও করতে পারে। এসব ইলেকট্রন পরিবহনেই উৎপাদন হয় ইলেকট্রিসিটি। এভাবেই আমাদের দৈনন্দিন বর্জ্যকে বিদ্যুতে রুপ দেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাথের কিছু গবেষক এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছেন। মিরিলা ডি লরেঞ্জো, বিভাগীয় অধ্যাপক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং যিনি একই সঙ্গে এই গবেষক দলের একজন তিনি জানান, এই ইলেকট্রিক ব্যাকটেরিয়ার অসাধারণ এক গুণ রয়েছে যা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার চিরায়ত নিয়ম ভেঙে ইলেকট্রন পরিবহনের সক্ষমতা দান করে। ফলে এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর একটা বিরাট জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত। তাদের কাছে যদি এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ পৌঁছানো যায় তবে সেটি হবে দারুন ব্যাপার। বিশেষ করে যেসব দেশে সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে বোঝা যায় এমন একটি প্রক্রিয়া কতোটা উপকারি হবে। সেখানে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ খোলা আকাশের নিচে তাদের জৈবিক কাজ সারে। যে দেশে এখনও মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিতে হয় শৌচাগার নির্মাণ করুন এবং ব্যবহার করুন, তাদের জন্যে এমন একটি প্রযুক্তি আশীর্বাদ হিসেবেই দেখা দিবে।

যদিও বিজ্ঞানীরা এখনো এটা প্রাথমিক পর্যায়েই আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত তারা প্রতি কিউবিক মিটারে ২ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। যা দিয়ে একটি মোবাইলে চার্জ দেয়া সম্ভব। এখন দেখার বিষয় এটা ব্যাপকভাবে কতটা সফলতা পায়। সেক্ষেত্রে শুধু ভারত নয় আমাদের মতো দেশগুলোও কিন্তু সুফল ভোগ করতে পারবে।

এতে করে আর শহরের দেয়ালগুলোতে লিখতে হবে না, ‘এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ, করলে….’। বরঞ্চ তখন দেয়ালগুলোতে হয়তো প্রসাব সংরক্ষণের পরামর্শ লেখা থাকবে।






মন্তব্য চালু নেই