মেইন ম্যেনু

প্রাইভেট টিউশন ঠেকাতে ভ্রাম্যমান আদালত

শিক্ষা আইনের খসড়ার ওপর মতামতদানকারীদের অধিকাংশই প্রাইভেট টিউশন, কোচিং এবং নোটবই, গাইড বই নিষিদ্ধ চান। খসড়ার ওপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রায় ৩০০ মতামত পাওয়ার পর নোট-গাইড ও প্রাইভেট টিউশনির দায়ে জেল-জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা রেখে খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, অধিকাংশ মতামতেই প্রাইভেট টিউশন, কোচিং এবং নোট-গাইড বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে সহায়ক বই প্রকাশেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদন লাগবে। কেউ এই আইন না মানলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, মতামত পাওয়ার পর এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করে দ্রুততম সময়ে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা যাবে। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রায় সব বিষয়ই এই আইনে থাকছে।

জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন, ২০১৬-এর খসড়া প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে গত ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মানুষের মতামত নেওয়া হয়।

খসড়া অনুযায়ী, যে কেউ প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং করালে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে মানসিক ও শারীরিক শাস্তি দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক বছর আগে এক পরিপত্রে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করলেও তাতে সাজার বিধান ছিল না। মতামতেও সাজার বিষয়গুলোকে সমর্থন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, মতামতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার কোচিং-প্রাইভেট টিউশন বন্ধের বিষয়টি কার্যকর করতে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনার সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) যাতে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে পারেন, তার বিধান রাখারও সুপারিশ করেন তিনি।

একজন বলেন, স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট টিউটরের শরণাপন্ন হচ্ছে, এটা বন্ধ করতে হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার সব স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় আচরণবিধি প্রণয়ন করবে। মতামতে সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য অভিন্ন আচরণবিধি করার সুপারিশ এসেছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়ে পৃথক নীতিমালা করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।






মন্তব্য চালু নেই