মেইন ম্যেনু

প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা নন-গেজেটেডই : আদেশ জারি সহসাই

সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ৪৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দু’বছর পর এসব শিক্ষক বর্ধিত হারে বেতনভাতা পাবেন।

তবে তাদের ‘গেজেটেড’ মর্যাদা দেয়া হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত আদেশ যে কোনো সময়ে জারি হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. হুমায়ূন খালিদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

গণশিক্ষা সচিব বলেন, উন্নীত গ্রেডে বেতন-ভাতা পেতে প্রধান শিক্ষকদের যে সমস্যা চলছিল, সহসাই তা মিটে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, সম্মতিপত্র পাওয়া গেলেই এ ব্যাপারে আদেশ জারি করা হবে।

প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেল নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটাতে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়। ফাইলে মহাহিসাবরক্ষক কর্মকর্তার চাওয়া ব্যাখ্যা ও আপত্তির জবাব সংবলিত সর্বশেষ পত্র যুক্ত করা হয়েছে। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেলে বেতনভাতা নির্ধারণে জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক একটি সারসংক্ষেপে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতনভাতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘…প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণে জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বরের পত্রটি সংশোধনপূর্বক ইতিপূর্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ৩য় শ্রেণী থাকাকালে যত সংখ্যক টাইস স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, তাকে ততসংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে উন্নীত পদমর্যাদা ও বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ আবশ্যক।’ এতে প্রধান শিক্ষকদের ‘নন-গেজেটেড’ হিসেবে ইতিপূর্বে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা সংযোজনসহ বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে এই ফাইল পাঠানোর পরও কাজের অগ্রগতি না দেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি চার বছর আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষক মুহা. আ. আউয়াল তালুকদার ও মহাসম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম চৌধুরীসহ কয়েকজন ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উভয়পক্ষে উন্নীত বেতন স্কেল সংক্রান্ত সমস্যাসহ দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে, এসব সিদ্ধান্তে প্রতিমন্ত্রীর কোনও ভূমিকা থাকেনা। নেতৃবৃন্দ হয়ত সাধারণ শিক্ষকদের দেখাচ্ছেন তারা কিছু করছেন।

আউয়াল তালুকদার দাবী করেন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন, সমস্যাটি দু’একদিনের মধ্যেই সমাধান হবে। এ সময় তিনি সহকারী শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষকদের বিষয়ে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ওই বছরই ২৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদ দেয়ার আইনগত সুযোগ নেই। পরবর্তীকালে অবশ্য তাদের নন-গেজেটেড দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ দেয়ার ব্যাপারে সায় মেলে।

এ অবস্থায় মহাহিসাবরক্ষকের দফতর থেকে পরে প্রধান শিক্ষকদের ‘আপাতত ২য় শ্রেণীর নন-গেজেটেড’ কর্মকর্তা দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাশাপাশি শিক্ষকরাও ‘নন-গেজেটেড’ মেনে নিচ্ছিলেন না।

এ ঘটনার মধ্যে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তারাও আপত্তি তোলেন। কেননা তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা। প্রধান শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দিলে প্রতিষ্ঠান তদারকিতে বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে। এভাবে নানা জটিলতার তৈরি হয়েছিল। অবশেষে জটিলতা নিরসনে ৭ ফেব্র“য়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের (বিদ্যালয়-২) স্বাক্ষরে ফাইল পাঠানো হয়।

জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরামর্শ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৬৪০০ টাকায় (সপ্তম পে-স্কেলের হিসেবে) উন্নীত করে। কিন্তু এটি দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-গেজেটেড কর্মকর্তার বেতন গ্রেড। মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে পুরনো প্রধান শিক্ষকদের বেতন সীমার অবনমন হয়ে যায়। শিক্ষক নেতাদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপ তাদের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাবহির্ভূত। তাদের দাবি ছিল, ‘গেজেটেড’ এবং ‘দ্বিতীয় শ্রেণী’। কিন্তু ‘গেজেটেড’ মর্যাদা দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে যারা নতুন যোগদান করেছেন তারা এখন ৬৪০০ টাকা স্কেলে (সপ্তম পে-স্কেল) বেতনভাতা পাবেন। পুরনোরা পাবেন এই স্কেলের সঙ্গে তাদের অর্জিত সব টাইম স্কেল যোগ করে যে স্কেল দাঁড়ায় সেটা।






মন্তব্য চালু নেই