মেইন ম্যেনু

প্রাচীন মিশরের ক্ষমতাবান নারী ফারাওরা

মিশর, প্রাচীন মানব সভ্যতা। নীল নদের আশির্বাদপুষ্ট মিশরে আছে রহস্যময় অনেক ঘটনা যা একে অন্য দশটা সভ্যতা থেকে আলাদা করেছে। আমরা মিশরের বিশাল বিশাল পিরামিডের কথা জানি, লম্বা দৈত্যাকৃতির মূর্তিগুলোর কথা জানি, যা সেই সময় কোন আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া কীভাবে তৈরি হয়েছিল তা আজও বিস্ময়ের উদ্রেক করে। মিশরের সুরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল চমৎকার। বিশাল সম্রাজ্য আর তার উপচে পড়া প্রাচুর্য্যকে দক্ষতার সাথে সুরক্ষিত করেছেন শাসকেরা, যাদের বলা হতো ফারাও। ফারাওদের মধ্যে নারী শাসকও ছিলেন, যারা সভ্যতায় তাদের অবদানের জন্য আজও স্মরনীয় হয়ে আছেন। আসুন জেনে নিই তাদের কথা।

হাতশেপসুত

হাতশেপসুত অর্থ হল “মহৎ নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ”! ১৮ শতকের প্রাচীন ঈজিপ্টে তিনি ছিলেন পঞ্চম ফারাও। তার জন্ম হয়েছিল সিংহের গুহায়। তিনি প্রথম থুতমোসের কন্যা এবং আহমেস এর স্ত্রী ছিলেন। শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন চমৎকার। নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে তার জন্য আলাদা একটি কক্ষই আছে যাখানে তুলে ধরা হয়েছে তার জীবন। যিশু খ্রীষ্টের জন্মের ১৫০০ বছর আগের প্রাচীন সময়ে তিনি ২২ বছর রাজ্য শাসন করেন। তার সময়ে অসাধারণ সব স্থাপত্য নির্মিত হয়েছে। তিনি পুরুষের পোশাক পরে সিংহাসনে বসতেন, এমনকি ফারাও এর নকল দাড়িও লাগাতেন। ঈজিপ্টোলজিস্ট জেমস হেনরির মতে, হাতশেপসুত ইতিহাসে উঠে আসা প্রথম মহৎ নারী।
নেফারতিতি

আখামেননের সম্মানিত রানী ছিলেন ছিলেন নেফারতিতি। নেফারতিতির ছিল অনেক উপাধি, যেমন, “Hereditary Princess”, “Great of Praises”, ”Lady of Grace”, “Sweet of Love”, “Lady of The Two Lands” and “Mistress of Upper and Lower Egypt”। নেফারতিতি এবং তার স্বামী ধর্মীয় আমূল পরিবর্তনের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। তারা এক দেবতায় বিশ্বাসী ছিলেন। সূর্য দেবতা এটন। স্বামীর মৃত্যুর পর নেফারতিতি সাম্রাজ্যের ভার নেন। নেফারতিতির ছিল ৬ টি কন্যা সন্তান। আখামেননের উত্তরাধীকারী তুতখামেন জন্ম নেন তারই বোনের গর্ভে। নেফারনেফাররিউতেন নামে ক্ষমতায় বসেছিলেন তিনি। তিনি কীভাবে মারা যান তা জানা যায় না। তবে যতটুকু ইতিহাস তার পাওয়া যায়, তা ছিল গৌরবময়, উজ্জ্বল।

ক্লিওপেট্রা

সপ্তম ক্লিওপেট্রা ফিলোপাটর, তিনি বহুল পরিচিত ক্লিওপেট্রা নামে। তিনি ঈজিপ্টের শেষ নারী ফারাও। ক্লিওপেট্রা একটি গ্রিক শব্দ, এর মানে ‘বাবার গৌরব’। প্রকৃতপক্ষে, ক্লিওপেট্রা প্রথমে তার বাবা দ্বাদশ টলেমী এবং পরে ভাই ত্রয়োদশ টলেমী ও চতুর্দশ টলেমীর সাথে রাজ্য পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ভাইদের সরিয়ে একাই সাম্রাজ্যের ভার নেন। ভাইদের প্রতি জুলিয়াস সীজারের রাগকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তিনি গভীর রাতে সীজারের প্রসাদে চলে যান। “Life of Julius Caesar” এ জানা যায়, কীভাবে তিনি নিজেকে কার্পেটে মুড়িয়ে সকল সেনার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করেন। সীজারের দত্তক পুত্র এবং সফল শাসক অক্টেভিয়ানের সাথে তার রাজনৈতিক এবং প্রেমের উভয় সম্পর্কই ছিল। তিনি ছিলেন চৌকশ, বুদ্ধিমতী এবং দূরদর্শী নারী শাসক।

নিতক্রিস

নিতক্রিসকে রানী নেতেরকের অথবা নিতিকর্তিও বলা হয়। তিনি রাজা ২য় পেপি এবং রানী নেইথ এর কন্যা ছিলেন এবং মনে করা হয় ২য় মেরেন্র নেমটাইমসাফ এর বোন ছিলেন। ষষ্ঠ শতকের ফারাও ছিলেন নিতক্রিস। গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে, তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে তাকে হত্যা করেন। অন্য ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি আত্মহত্যা করেন।

খেনকস ১

৪র্থ শতাব্দীর ফারাও ছিলেন প্রথম খেনকস। মনে করা হয়, তিনি ফারাও মেনকয়ারের কন্যা। তার সমাধি আছে গিজা পিরামিডে। তার কবরকে বলা হয় এলজি ১০০ এবং জি ৮৪০০। তিনি ছিলেন উল্লেখযোগ্য শাসক। শাসনকার্যের প্রয়োজনে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করতেও পিছ পা হননি। ধৈর্যশীল এবং দূরদর্শী এই নারীর সমাধি কমপ্লেক্সটিতে আছে মন্দির এবং নৌকা পিট।

সোবেকনেফেরু

সোবেকনেফেরুকে নেফারুসোবেক ও বলা হয়। এর অর্থ সোবেক এর সৌন্দর্য্য। তিনি ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর ঈজিপশিয়ান ফারাও। খ্রিষ্টপূর্ব ১৮০৬ থেকে ১৮০২ পর্যন্ত ৪ বছর তিনি ঈজিপ্ট শাসন করেছেন। তিনি ৩য় ফারাও আমানেমহাট এর কন্যা ছিলেন। তার অনেক ভাস্কর্য পাওয়া গেছে, এর মধ্যে অনেকগুলোই অবশ্য মাথা ছাড়া! গেযের এ আবিষ্কৃত ভাস্কর্যগুলো “রাজার রাজকীয় কন্যা” নামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি হাওয়ারার আমেনেনহাট ৩ এর পিরামিড কমপ্লেক্সটির কিছু পরিবর্তন করেন বলে জানা যায়। এছাড়াও তিনি হেরাকলিওপলিস মেগ্নার স্থাপত্যগুলো নির্মাণ করেন। তার মৃত্যু কিভাবে হয় বা কবর কোথায় এর কোন প্রমাণ নেই। তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, মাঝঘুনা পিরামিডটি তার সৌধ।






মন্তব্য চালু নেই