মেইন ম্যেনু

প্রাণীজগতের কিছু বিস্ময়কর কাজ

কখনো কখনো সত্য অলীক কাহিনীর চেয়েও অদ্ভুত হয়। এই কথাটি প্রকৃতির ক্ষেত্রে অনেকটাই সত্যি। প্রাণীর আত্মরক্ষার কৌশলগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে বিস্মিত না হয়ে উপায় নাই। প্রাণীর বিস্ময়কর সেইরকম কিছু বৈশিষ্ট্যের কথাই আজ জেনে নিই চলুন।

১। বর্ষণকারী প্রাণী
বর্ষণকারী প্রাণীর নাম শুনলেই অদ্ভুত ও আদিম মনে হয় তাইনা? সত্যিই এটি হয়! তবে কদাচিৎ হয়। মাছ, ব্যাঙ ও পাখিদের মধ্যেই এই রূপটি আছে। তাদের সম্পর্কিত তথ্যে তারতম্য আছে। তবে সাধারণত ধারণা করা হয় যে শক্তিশালী বাতাস পানির প্রাণীদেরকে যেমন- মাছ ও ব্যাঙ ইত্যাদিকে উপরের দিকে উঠিয়ে নিয়ে অথবা পাখির ক্ষেত্রে আকাশ থেকে নামিয়ে নিয়ে আসে। বড় কোন ঝড়ের পূর্বে এমন হতে পারে। এক্ষেত্রে আকাশ থেকে বৃষ্টির সাথে পড়তে থাকে ব্যাং বা মাছ।

২। প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম বিস্ফোরণমুখী প্রাণী
হাঁ আপনি ঠিকই পড়ছেন, কিছু প্রাণী আছে যারা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ট্যাংক ধ্বংস করার জন্য সুইসাইড ডগ ব্যবহার করা হয় অথবা সর্বসাধারণের সৈকতে তিমি মাছ দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

৩। দলবদ্ধ নির্মাতা এবং প্রাণী স্থপতি
মানুষ এমন সব স্থাপনা নির্মাণ করছে যা কল্পনাতীত। কিন্তু কিছু প্রাণীর স্থাপত্যশৈলী দেখে বিস্মিত হতে হয় যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির মাকড়সা একত্রে জাল তৈরি করে, পিঁপড়ার কলোনি যা হাজার হাজার মাইল যাবত বিস্তৃত, খড় নির্মিত পাখির বাসায় একসাথে অনেক পাখি বাস করে।

৪। চতুর ছদ্মবেশ ও রঙিন প্রাণীর নিঃশব্দচারণ
পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য কিছু প্রাণী তাদের আশেপাশের প্রতিবেশীদের মত রূপ ধারণ করে – এটি সম্ভাব্য শিকারি প্রাণীর সম্মুখে একটি বিবর্তনীয় সুবিধা। একে ক্যামোফ্লেজ বলে। অক্টোপাস সমুদ্রের বালুর মধ্যে মিশে থাকতে পারে, কিছু পতঙ্গ পাতার বর্ণ ধারণ করে, কিছু মাছ আছে যারা সমুদ্রের গাছের মত দেখতে হয়। এমন একটি অক্টোপাস আছে যে সমুদ্রের ২০টি প্রাণীকে অনুকরণ করতে পারে।

৫। সিমবায়োসিস বা মিথোজীবিতা
একই প্রজাতির প্রাণীরা একসাথে কাজ করে কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী একসাথে কাজ করে এটা শুনতে অবাকই লাগে! পানিতে : হাঙ্গর সাইডকিক মাছের সাথে শিকার করে, চিংড়ি ঈল মাছকে পরিষ্কার করে, কাঁকড়া বিষযুক্ত বক্সিং প্যাড হিসেবে অ্যানিমোনেসকে ব্যবহার করে। আকাশে : কিছু পাখি কুমীরের দাঁত থেকে খাবার নিয়ে যায়। মাটিতে : সূক্ষ্মদর্শী জেব্রা উন্নত শ্রবণশক্তি সম্পন্ন অস্ট্রিচ পাখির সাথে খায়। এরা একে অন্যের বিপদে সতর্ক করতে পারে।

তাছাড়াও কিছু প্রাণী আছে যারা এক ঘন্টা বা মিনিটের মধ্যে তাদের বর্ণ ও আকার পরিবর্তন করে ফেলতে পারে, কিছু প্রাণী আছে যারা তাদের সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে -বিজ্ঞানীরা এখনো এর কারণ খুঁজে পাননি। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ স্ত্রী প্রাণীরাই পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। পাফার ফিশের আত্মরক্ষার জন্য ট্রেট্রোডোটক্সিন নামক বিষ থাকে যা দিয়ে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটানো সম্ভব, হুভার বাঁধের চেয়েও উন্নত বীবর বাঁধ, পেপার ওয়াস্প বা বোলতা তাদের ডিমকে রক্ষার জন্য পিঁপড়ানাশক রাসায়নিক নিঃসৃত করে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই