মেইন ম্যেনু

প্রায় তিন মাস ধরে বানের পানিতে ভাসছে গ্রামটি : কেউ আসেনি দেখতে

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলাধীন কলারোয়া পৌর সভার গোপিনাথপুর উত্তর পাড়া প্রায় তিন মাস ধরে ভাসছে বানের পানিতে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ভাংড়া খালের মুখে বাঁধ ও গোবিন্দকাটি, ঝাউডাঙ্গা ও ওয়ারিয়া মাঠে শত শত ঘেরই হচ্ছে এই বানের অন্যতম কারন।

ঐ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আব্দুল আজিজ জানান, গত তিন মাস ধরে আমরা জলব্ধতার স্বীকার। গত ১৫ বছর ধরে আমাদের এই অবস্থা। অন্য বছরের তুলনায় এবারের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তিনি আরো জানান, আমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী বেত্রাবতী নদী গত বছর ঠিকমত খনন করা হয়নি। ঝাউডাঙ্গার ভাংড়া খালের মুখে বালির বস্তা দিয়ে বাধ দেওয়া হয়েছে। এবং শত শত ঘের আছে সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি, ওয়ারিয়া ও ঝাউডাঙ্গার মাঠে। ঘের মালিকেরা ঘের তৈরী করার সময় পানি বের হওয়ার কোন পথ রাখেনি। ফলে কলারোয়া উপজেলা প্রায় ২৭ টি গ্রামের পানি এসে জমা আমাদের এ এলাকায়। নিস্কাষনের অব্যস্থপনার কারনে আজ আমাদের এই অবস্থা।

গ্রামের মটর ম্যাকানিক আনারুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন জলবদ্ধতার কারনে আমাদের গ্রামে বসবাসরত প্রায় ৪০ টি পরিবারের প্রত্যেকে কোন না কোন রোগে ভুগছেন। বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়,চুলকানি সহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের এ গ্রামে জলবদ্ধতার এ অবস্থা আজ নতুন নয়। দীর্ঘ দিন ধরে আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বানের পানিতে ভাসছি। তিনি জানান, গরু ,ছাগল,হাস,মুরগী নিয়ে আছি মহা বিপদে।

erty

ইতোমধ্যে অনেকে গরু ছাগল অনেক কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রায় ৩ মাস যাবৎ পানি বন্ধি অবস্থায় আছি। কিন্তু সরকারের উপর মহলের কোন ব্যাক্তি এলাকাটি দেখার জন্য আসেননি। আমরা বিভিন্ন সময় পৌর সভার মেয়র,উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমাদের দুখঃ দুরদশার কথা জানিয়েছি। উনারা বলেন দরখাস্ত করো। দরখাস্তের পর দরখাস্ত করেছি। কিন্ত গত ১৫ বছর ধরে কোন কাজ হয়নি।

সরেজমিনে ঐ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে পাড়ার প্রতিটি বাড়ির উঠানে হাটু পানি, অনেকের ঘরের মধ্যে ১ থেকে ২ ফুট পানি। সাতক্ষীরা যশোর মহা সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত এ পাড়ায় ঘুকতে রাস্তার উপর কোমর সমান পানি। স্কুল গামী ছেলে মেয়েরা ভেলায় চড়ে স্কুলে যাওয়া আসা করছে।

গোপিনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী খাদিজা জানায়, ঘর থেকে বের হলেই কোমর পানি। রাস্তায় হাটু পানি। পানিতে হেঁটে স্কুলে গেলে হাত পা চুলকায়। জামা কাপড় ভিজে যায়। সে জন্য স্কুলে যেতে ভাল লাগে না। পঞ্চম শ্রেনী ছাত্র সুমন জানায়, সামনে আমাদের সমাপনী পরীক্ষা। আমাদের গ্রামে জলবদ্ধতার কারনে আমরা ডায়রিয়া, আমাশয় , চুলকানি সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা কিভাবে পরীক্ষায় অংশ নেবো? প্রতিদিন ভেলায় চড়ে স্কুলে যাওয়া আসা করি।

গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, আমাদের পাড়ায় একাটা মাত্র কবর স্থান। যেটি গত তিন মান ধরে কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। আরো ৩ মাস পানি থাকবে। এ সময়ের মধ্যে যদি কেই মারা যায় তাহলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। আমাদের এলাকায় কোন সরকারী কবর স্থান নেই। এলাকার লোকজনেরা তাদের কবর স্থানে অন্য স্থানের লোকদের যায়গা দিতে চায় না।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহামেদ স্বপন সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি জানান,এ ব্যপারে দ্রত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কলারোয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অনপু কুমার তালুকদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান,কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ঐ গ্রামে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এবং জলবদ্ধতা সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধান করার জন্য এলাকার কাউন্সিলর, পৌর সভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের সন্বনয়ে একটি জরুরী সভা আহবান করবো।

এলাকার ভুক্তভোগী ৪০ টি পরিবারের সদস্যরা তাদের এই জলবদ্ধতা থেকে স্থায়ী ভাবে সমাধানের লক্ষে ওয়ারিয়া,গোবিন্দকাটি ও ঝাউডাঙ্গার মাঠে অবস্থিত অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা ঘের অপসরণ, বেত্রাবতী নদীর পূনঃ খনন ও ভাংড়া খাল অথবা বিকল্প পথে পানি বের করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রষাসক সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই