মেইন ম্যেনু

প্রায় ৩ বছর ধরে অলস পড়ে আছে বেরোবি’র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নির্মান কাজ সম্পন্নের প্রায় ৩ বছর হলেও অলস পড়ে আছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। ২কোটি ৯ লাখ টাকা বাজের ৪ তলাবিশিষ্ট ভিত্তির ১ম পর্যায়ে ২য় তলা স্থাপনের দীর্ঘদিন পেড়িয়ে গেলেও নানা অজুহাতে উদ্বোধন হচ্ছেনা ক্যাফেটেরিয়া।

১০২১ স্কয়ার মিটার বিশিষ্ট ক্যাফেটেরিয়া যে উদ্দেশ্যে নির্মানের কথা রয়েছে তার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি এখনও। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

জানা যায়, ১ম পর্যায়ের (২০০৯-১২) ১৬ টি প্রকল্পের একটি হলো ২য় তলাবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নির্মান। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্নের কথা ছিলো ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। কিন্তু সেটি বাড়িয়ে ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্নের কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা হয়নি। ২০১৩ সালে নির্মান কাজ সম্পন্ন হলেও এখনও উদ্বোধন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ক্যাফেটেরিয়া নির্মানের উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, একটি ব্যাংক, মেডিকেল সেন্টার, সেলুন (হেয়ার কার্টিংস),বিভাগীয় স্টোর (যেখানে শিক্ষার্থীদের খাতা,কলম,বই পাওয়া যাবে), ক্যান্টিন থাকবে। কিন্তু তার একটিও আজ পর্যন্ত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থেকে ময়লা জমে গেছে ক্যাফেটেরিয়ার দেয়ালে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ব্যাংক না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের টাকা তুলতে হয় রংপুরের লালবাগ শাখায় জনতা ব্যাংকে গিয়ে দিনের পর দিন। প্রতিদিন ব্যাংকের লোককে এখানে আসতে একাডেমিক কাজে। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদেরও লালবাগ শাখায় গিয়ে বিভিন্ন একাডেমিক কাজের টাকার লেনদেন করতে হচ্ছে। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেকেই। ক্যাফেটেরিয়ার ২য় তলায় ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ মিলছেনা প্রশাসনের। অর্থব হয়ে আছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া কমিটি।

নির্মানের প্রায় ২ বছর পর ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ক্যাফেটেরিয়া চালুর উদ্দেশ্যে সে সময় বিজনেজ অনুষদের ডিন ড. মতিউর রহমানকে সভাপতি ও নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে সেক্রেটারি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

পরে কমিটির সেক্রেটারির কার্যকর অংশগ্রহনের অভাবে কমিটির কোনো সভা আহ্বান না করা এবং ক্যাফেটেরিয়া চালুর বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহন না করা এবং মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেছেন বলে আজ জানান ডিন মতিউর রহমান। তিনি আরো বলেন, সে সময় সেক্রেটারিকে সভা আহ্বানের কথা বললে তিনি সভা আহ্বান করেন নি। ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে নতুন কোনো ব্যক্তিকে সেক্রেটারি হিসেবে চাইলে কতৃৃপক্ষ দেওয়ার স্বীকৃতি জানিয়েও দেন নি। ফলে এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে না পেয়ে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে না পারায় পদত্যাগ করেছি আমি।

এ ব্যাপারে সেই সময়কার ক্যাফেটেরিয়া সেক্রেটারি নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কারন জানতে চাইলে তিরি এড়িয়ে যান।

এর ৬ মাস পর কলা অনুষদের ডিন সাইদুর রহমান ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুর রহমানকে দায়িত্ব দিলেও এখনও বাস্তবায়ন করেনি তাঁরা। কবে নাগাদ টেন্ডার আহ্বান করা হবে জিজ্ঞেস করলে শীঘ্রই করা হবে বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর শাহীনুর রহমান। এদিকে দায়িত্ব দিয়ে গা ছাড়া হয়েছেন উপাচার্য নিজেও। অনেকের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের দৌরাত্ম থাকায় এর অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যাফেটেরিয়া উদ্বোধনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ক্যাফেটেরিয়ার কাজ শেষ হয় এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝিয়ে নেওয়া হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে। ক্যাফেটেরিয়ার ২য় বার টেন্ডার হওয়ার কারনে এর কাজ পিছিয়ে যায়। তিনি বলেন, আপাতত ক্যাফেটেরিয়ার ১ম তলায় শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিন ও ২য় তলায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্যান্টিন চালু করা হবে। ২য় তলায় ব্যাংক স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকলেও তিনি বলেন এর পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। আর মেডিকেল সেন্টারের কথা বললে তিনি বলেন, এটার জন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা হবে।

আরো আশ্চর্যের কথা যে, ক্যাফেটেরিয়ার আশেপাশে বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও কেবা কারা তা করেছে তার হদীস জানেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জানেন না বলেছেন। বিষয়টি ধামাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কী না সেটা পরিস্কার নয়।

ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো: শাহীনুর রহমানকে ক্যাফেটেরিয়া উদ্বোধনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আহ্বায়ক ড. শিমুল মাহমুদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে বলেন। কলা অনুষদের ডিন শিমুল মাহমুদকে এ ব্যাপারে ফোন করলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মোবাইলে কল করলে আমি বিরক্ত হই।

তবে ক্যাফেটেরিয়া কবে চালু হবে অথবা আদৌ এ বছরে হবে কি না সে ব্যাপারটি এখন সবার মনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।






মন্তব্য চালু নেই