মেইন ম্যেনু

প্রেমের অপরাধে আ’লীগ নেতার এ কেমন বর্বরতা!

গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি পরিহিত লোকটি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। নাম তার মো. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।–সমকাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা। ঘটনাস্থল টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় শতাধিক লোক নতুন এই চেয়ারম্যানের ক্ষমতার দাপট দেখলেন। দেখলেন তার ভয়ঙ্কর রূপ। প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় টইটং ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ মৌলভীবাজার

থেকে আটক করেন রেজাউল করিম নামের এক যুবককে। তিনি টইটং ইউনিয়নের গুদিকাটা গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে। তার অপরাধ, তিনি প্রেম করে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন।

পরে রেজাউল করিমকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে হাজির করা হয় ইউপি পরিষদের সামনে। সেখানে গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে হাজির হন চেয়ারম্যান। গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে লাঠি নিয়ে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন রেজাউল করিমকে। শত কাকুতি-মিনতি করেও রক্ষা হয়নি অসহায় রেজাউলের। তাকে রাস্তায় ফেলে শরীরের ওপর চেয়ারম্যান দুই পা তুলে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালান। এর আগে গ্রাম পুলিশও ওই যুবকের ওপর নির্যাতন চালায়। ঘটনাস্থলে শতাধিক লোক উপস্থিত থাকলেও চেয়ারম্যানের ভয়ে ওই যুবককে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। রেজাউল করিমকে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন চালানো হয়। বেলা ১১টার দিকে পেকুয়া থানা পুলিশে খবর পাঠান ইউপি চেয়ারম্যান। পুলিশ এসে ওই যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে ওই যুবককে দুপুরে হাজির করা হয় পেকুয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। পেকুয়ার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফুর রশিদ খান ওই যুবককে ইভ টিজিংয়ের অভিযোগে তিন মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান।

স্থানীয়রা জানান, রেজাউল করিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ভোরে তারা দু’জনেই পালিয়ে সংসার বাঁধার উদ্দেশে বের হন। সকাল ৮টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের মৌলভীবাজার থেকে দু’জনকে আটক করে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশরা।

নির্যাতনের শিকার যুবকের বড় ভাই শহিদুল করিম অভিযোগ করেছেন, তার ভাইকে বিনা অপরাধে চেয়ারম্যান মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

পেকুয়ার ইউএনও মারুফুর রশিদ খান জানান, পুলিশ তার কাছে ওই যুবকের ইভ টিজিংয়ের অভিযোগে নিয়ে এলে তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়। এর আগে কী ঘটেছে, তার জানা নেই।

টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রাম পুলিশ ওই যুববকে তার কাছে নিয়ে এলে তিনি হালকা মারধর করেছেন। আইন কেন নিজের হাতে তুলে নিলেন_ এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাই, ভুল হয়ে গেছে।’ পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যান ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ আনায় ওই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই