মেইন ম্যেনু

প্রেমের ফাঁদে পড়ে ৯৪ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বৃদ্ধা

সবাই বলে প্রেম নাকি অন্ধ হয়। মানে না কোনও বাধা। যে কোনও বারণকে তুচ্ছ করার ক্ষমতা রাখে। প্রেমের চোখে নাকি বার্ধক্যও কোনও সমস্যা নয়। এমন নিঃশর্ত প্রেমকেই হয়তো সারাজীবন খুঁজে চলেন মানুষ। ভাবেন একবার যদি দেখা পাওয়া যায় সেই মানুষটার, যিনি নিঃশর্তভাবে ভালবাসবেন।

এমন মানুষের খোঁজেই বোধহয় ব্যাকুল ছিলেন পুণের মডেল কলোনির বাসিন্দা দীপিকা (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু এই খোঁজই যেন প্রতারণার ফাঁদ হয়ে তাঁর জীবনে এল৷ তাঁর একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁকে রীতিমতো লুঠ করল এক ব্যক্তি। দীপিকার সঙ্গে মিথ্যা বন্ধুত্ব এবং প্রেমের নাটক করে প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিল সেই প্রতারক।

স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। তাঁর মেয়ে থাকেন মার্কিন মুলুকে৷ খুব স্বাভাবিকভাবেই নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকা দীপিকা একজন সঙ্গী চেয়েছিলেন৷ আর যেমন চাইলেন, তেমনই পাওয়া৷ হার্লে বেনসন নামক এক লন্ডন নিবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হল দীপিকার৷ প্রথম ফেসবুকে মারফত যোগাযোগ হলেও, পরে ফোন নম্বর আদানপ্রদানের মাধ্যমে হার্লে এবং দীপিকার সম্পর্ক এগিয়ে চলে।

প্রথমে বন্ধুত্ব এবং তারপর প্রেমের দিকে এগোতে থাকে তাঁদের সম্পর্ক। চলতি বছরের মে মাসের থেকে দু’জনের পরিচয় হলেও, বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই গভীর হয়ে উঠেছিল তাঁদের সম্পর্ক৷ হার্লে নাকি দীপিকাকে জানায়, সে পাকাপাকিভাবে ভারতে এসে থাকতে চায় এবং তার জন্য দীপিকার সাহায্যের প্রয়োজন। আর দীপিকাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বন্ধুর দিকে।

এই সুযোগের অপেক্ষাতেই যেন হার্লে এতদিন ছিল৷ সে দীপিকাকে বলে অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা তাঁর সোনা এবং হীরে আটক করে রেখেছেন এবং সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে টাকার প্রয়োজন। দীপিকা হার্লের কথায় বিশ্বাস করে তাঁকে টাকা দিয়ে দেন৷ এই ভাবে বেশ কয়েকবার হার্লের অ্যাকাউন্টে টাকা দেন দীপিকা।

দীপিকার দাবি, তিনি হার্লেকে প্রায় ৯৪.৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। আর এই টাকা পেয়েই ফোন বন্ধ করে দেয় হার্লে। দীপিকার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থ এবং বন্ধু দুইয়ের বিচ্ছেদে দীপিকা টের পান চরমভাবে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। আর এরপরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে জানিয়েছেন, হার্লের টাকা জোগাতে নিজের জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তিনি। -সংবাদ প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই