মেইন ম্যেনু

প্লাস্টিক খাবে পোকা, বাঁচবে পৃথিবী

মানবের এই দুনিয়ায় প্লাস্টিক আবিষ্কারের বয়স খুব একটা বেশি নয়। এইতো ১৮৬০ সালের কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ার্ড বল কোম্পানি পেহলান এবং কলান্দার প্রকারান্তে প্লাস্টিক সদৃশ কোনো বস্তু আবিষ্কারের জন্য দশ হাজার ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন। অবশ্য আমাদের আজকের আলাপ, কিভাবে প্লাস্টিক আবিষ্কার বা উৎপাদিত হলো, সেবিষয়ে নয়। বরং কথা হলো, আজ অবধি পৃথিবীতে যতটুকু প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে তার একটুও পঁচে বা নষ্ট হয়ে যায়নি। বিজ্ঞানীদের মতে, ৪০০ বছরেও প্লাস্টিক পুরোপুরি পঁচে যায় না। আর যেহেতু এই বস্তু পঁচে যায় না, তাই প্রকৃতিতে বিভিন্ন অবস্থায় প্লাস্টিক বিক্রিয়া করার কারণে নানান রকম অসুবিধা হচ্ছে মানব জীবনে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এক ধরনের লার্ভা খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো অনায়াসে প্লাস্টিক খেয়ে হজমও করে ফেলতে পারে।

গবেষক দলের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রকৌশলী ও গবেষক ওয়েই মিন উ’র নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়ান্স অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। এবিষয়ে ওয়েই বলেন, ‘আমাদের এই উদ্ভাবন বিশ্বের প্লাস্টিক দূষণ সমস্যার সমাধানে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করলো।’

২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ডওয়াচ ইন্সটিটিউট থেকে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীতে ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। ইউরোপে ২০১২ সালে মোট ৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক শুধু ব্যবহৃত হয়েছে। উৎপাদিত প্লাস্টিকের মধ্যে একটি বড় অংশ পরবর্তীতে জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশ মাটি ভরাটের কাজে চলে যাচ্ছে।

গব্ষেক দলের অন্যতম সদস্য ক্রেইগ ক্রিডেল জার্নালে জানান, ‘এই গবেষণা নিঃসন্দেহে আরও নতুন গবেষণার দ্বার খুলে দিচ্ছে। কিছু সময় বিজ্ঞান যে সত্যিই আমাদের চমক লাগিয়ে দেয় এটা তার উদাহরণ।’ পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, ১০০টি পোকা দিনে প্রায় ৩৪ থেকে ৩৯ মিলিগ্রাম স্টেরোফোম খেয়ে ফেলছে, যার আয়তন প্রায় একটি পিলের মতো। তবে উল্লেখ করার মতো কথা হলো, এই পোকাগুলো বিশ্বের নানান প্রান্তে দেখা গেলেও ভারতের জলবায়ুর পোকারাই কেবল প্লাস্টিক হজম করে ফেলতে পারে। এবিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখন কাজ করছেন বলে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই