মেইন ম্যেনু

প্লাস্টিক পণ্য, খেলনা ও সস্তা রঙিন জামা আপনার শিশুর কতটা ক্ষতি করছে জানেন!

রাস্তার ধারে বিভিন্ন বিপণিবিতানের সামনে অথবা ফুটপাতে বিক্রি হওয়া চোখ রাঙানো রঙিন জামাকাপড় দেখে আপনার মনে হতেই পারে বাড়ির ছোট্ট শিশুটির জন্য কিনে নিয়ে যাই ।শুধু তাই নয় বর্তমানে প্লাস্টিক পন্যেরও চরম বিক্রি বেড়েছে । ছোট বাচ্চাদের ফিডার থেকে শুরু করে খেলনার বিস্তার চোখে পরার মত । বিশেষ করে গ্যাস বেলুন ও ছোট ছোট লাইট লাগানো বিভিন্ন প্লাস্টিকের খেলানা । আমরা সবাই এগুলো কিনি এবং নির্দ্বিধায় ব্যবহার করি । ফুটপাতে খুব কম দামে খুব রঙিন যে জামা কাপড়গুলো বিক্রি হয় আমরা কি ভেবে দেখেছি এগুলো কতটা স্বস্থ্য সম্মত । বাচ্চারা প্রথমেই কোন জামাকাপড় মুখের ভেতর এটে দেয় । জামায় যে রং থাকে তা মুখে ছড়িয়ে পড়ে । সস্তা দামের এ পোষাকগুলোতে যে রং ব্যবহার করা হয় তা করার পর কি সঠিক ভাবে তা ওয়াস করা হয় বা এতে দুষনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে কোন কি ব্যবস্থা আছে বলে মনে করেন?

সাধারনত রংয়ের মধ্যে যে কেমিক্যালগুলো থাকে তা অনেক ক্ষেত্রেই বেশি মাত্রার দুষক এবং বিষাক্ত । তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও এই বিষক্রিয়া ঘটতে পারে আস্তে আস্তে । ভারী মৌলের সমন্বয় থাকে অনেক অ্যাজো ডাই যৌগতেও যা কিনা রং হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই সস্তা দামের জামা কাপড়ের রংয়ে!

খেলানাগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা । প্লাস্টিকের যে খেলনা ব্যবহার হয় তাতেও রংয়ের ব্যবহার আছে ।এই রং এবং প্লাস্টিকের অন্যান্য যৌগের কারণে মুখে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে শিশুদের ক্ষেত্রে । স্বাস্থ্যসম্বতভাবে প্লাস্টিক উৎপাদনের নির্দিষ্ট কিছু স্ট্যান্ডার্ড ফলো করার কথা থাকলেও নিম্নমানের এ কোম্পানিগুলো তা করছে কিনা সে ব্যপারে যথেষ্ঠ সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে ।

গ্যাস বেলুন বা এ জাতীয় খেলানাগুলোর ক্ষেত্রেও কোন ধরনের নীতিমালা মানা হচ্ছেনা । হিলিয়াম বা হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়ে যে বেলুনগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে তা যদি ছোট কোন শিশুর কাছাকাছি ফেটে যায় এবং গ্যাস শিশুর দেহে প্রবেশ করে তাতেও স্বাস্থ্য ঝুকি থেকেই যায় । শুধু তাই নয় কত বছর বয়সের শিশুরা এগুলো ব্যবহার করতে পারবে তারও কোন নির্দেশনা এগুলোতে দেওয়া থাকেনা ।

আমরা একটু অসচেতনতা এবং না জানার কারণে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত । প্লাস্টিক পন্য, রঙিন জামা কাপড় এবং গ্যাস বেলুন জাতীয় খেলানার ব্যপারে সঠিক স্ট্যান্ডার্ড ও দিক নির্দেশনা মেনে চলার ব্যপারে এক্ষনি সচেতন হওয়া প্রয়োজন । বিএসটিআই, মান নিয়ন্ত্রন সংস্থাসহ শিল্প মন্ত্রনালায় এ ব্যপারে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে ।এ ব্যপারে আমি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি । যদি এক্ষনি এ ব্যপারে সু-স্পষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া যায় তবে দীর্ঘ মেয়াদী এবং রাসায়নিক বিষক্রিয়াযুক্ত রোগের সংখ্যা আরও বাড়বে যা কিনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শুভ লক্ষন নয় !






মন্তব্য চালু নেই