মেইন ম্যেনু

পড়ানো হলো গার্হস্থ্য, পরীক্ষা হলো কৃষিতে

সারাবছর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে কৃষি শিক্ষায়। এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সেরকমই ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো পাকুটিয়া বিসিআরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ শিক্ষার্থীকে।

আজ মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ৯০ শিক্ষার্থীর আজ গার্হস্থ্যবিজ্ঞানে পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে কৃষিশিক্ষায়।

জানা গেছে, পাকুটিয়া বিসিআরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ শিক্ষার্থীকে সারা বছর তাদের শিক্ষকরা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পাঠদান করেছেন, কিন্তু তাদের রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে এসেছে কৃষিশিক্ষা। ফলে বাধ্য হয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই বসতে হয়েছে কৃষিশিক্ষা পরীক্ষায়।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। তারা জানান, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এত বড় ভুল করল, কারো চোখে পড়ল না, সারা বছর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়ে আজ তাদের সন্তানদের কৃষিশিক্ষা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

এক পরীক্ষার্থীর মা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, শিক্ষার্থীদের অনেকেই অতিরিক্ত বিষয় থেকে নাম্বার রেজাল্টে যোগ হবার আশায় থাকে, সেখানে একদিন পড়ে মেয়েদের কী আর নম্বর আসবে?

পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রের বাইরে থাকা পাকুটিয়া বিসিআরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি শিক্ষার্থীরা জানায়, অতিরিক্ত বিষয় থেকে নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শিক্ষকদের ভুলের কারণেই জিপিএ-৫ পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হবে অনেকে। এ দায় ভার কে নেবে?

বালিয়াটী ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক মো. আছালত জামান খান জানান, তার কেন্দ্রে পাকুটিয়া বিসিআরজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় ২৮০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে কৃষিশিক্ষা থাকলেও সারা বছর পাঠদান করানো হয়েছে গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে। বিষয়টি সোমবার পরীক্ষার সময় তার চোখে পড়ে, তখনই শিক্ষার্থীরা হইচই শুরু করে দেয়। তখন তাদের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তাদের বুঝানো হয়, যেহেতু ভুলে তাদের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়ানো হয়ছে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে তাদের কৃষিশিক্ষা চলে এসেছে তাই আজ তাদের কৃষিশিক্ষা পরীক্ষাই দিতে হবে।

পাকুটিয়া বিসিআরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুল করিম মিয়া নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও কিছুটা দায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপরও চাপিয়ে দেন। তিনি বলেন, বছরের শুরুতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কৃষিশিক্ষা বই সরবরাহ না করে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বই দেয়া হয়। সেই বই আমারা সারা বছর পড়িয়েছি।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিগার সুলতানা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড তো আর গতকাল বা আজ মঙ্গলবার আসেনি। কয়েক মাসে আগেই প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওই কার্ড পাঠানো হয়। তখন কি কোনো শিক্ষকরেই চোখে পড়েনি? বিষয়টি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে খেয়াল করলে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না।






মন্তব্য চালু নেই