মেইন ম্যেনু

পড়ালেখা করে কি হবে? কাজ না করলে আমরা খাবো কি?

জীবনযুদ্ধে সুবিধা বঞ্চিত। সহজে বললে অবহেলিত, অবাঞ্ছিত। সমাজ থেকে বহুদূরে সমাজেরই অংশ। আসলে ওরা টোকাই, সাবেক স্বৈরশাসকের দৃষ্টিতে ‘পথকলি’।

আর বাংলাদেশে পথশিশু মানেই শত শত বঞ্চনার এক করুণ গল্প। এ শিশুগুলো অন্য সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা। পথশিশুরা তাদের প্রাপ্য সব ধরনের নাগরিক অধিকার থেকে কোনো না কোনোভাবে বঞ্চিত।

তারা পায় না কোনো শিক্ষা, পায় না অন্ন বস্ত্র কিংবা বাসস্থানের দেখা।

রাস্তায় থেকে রাস্তায় খেয়ে তাদের বেড়ে উঠতে হয়। এদের শিক্ষা বঞ্চনাটা সব থেকে বেশি ভয়াবহ। শুধু পথশিশু হওয়ার কারণেই যেন তাদের ভালো একটা স্কুলে পড়ার অধিকার নেই, বই পাওয়ার অধিকার নেই, নেই স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয় সুবিধা।

তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর বেড়ি বাঁধে ঢাকা উদ্যানে থাকা জীবন বলেছে, সে ছোট বেলায় একবার স্কুলে গিয়েছিল। তারপর আর কখনো যাই নি। সে এখন সংসদ ভবন এলাকায় ভিক্ষা করে।

পরবর্তীতে তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাতো আর এতো টাকা খরচ করে পড়াতে পারবো না। বই, স্কুল ড্রেস এগুলো কই পাবো। ওরা মানুষের কাছে চেয়ে যা পায় ওটা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না, খুব কষ্ট হয়।

‘পড়া লেখা করে কি হবে? লেখা পড়া করলে আমরা খাবো কি? বোতল কাগজ না নিয়ে গেলেতো মা খাওন দিবে না। এভাবে নিজের কথা বলেছে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু মুরাদ।

মা বাবার ইচ্ছে থাকা সত্তেও পড়ালেখা করা হয় না তার। সে যদি পড়ালেখা করতে যায়, তাহলে তার খাবার দাবারের আয়োজন করবে কে? তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে। বাবা ছেড়ে চলে গেছে তাই তাকে পড়া বাদ দিয়ে কাজ করে খেতে হয়।

এই পথশিশুগুলো স্বাধীন বাংলাদেশেরই নাগরিক অথচ তাদের নেই কোনো সঠিক তথ্য, নেই সঠিক সংখ্যা। ২০১১ সালের সরকারি একটি জরিপ অনুযায়ী ১০ লাখ পথশিশুর তথ্য পাওয়া যায়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কমিউনিকেশন অফিসারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে পথশিশুদের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। অপরাজেয় বাংলার নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু জানান, শুধু রাজধানীতেই প্রায় ৮ লাখ পথশিশু রয়েছে।

বর্তমান সরকার ৪০ হাজার পথশিশুকে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও এর কার্যকারিতা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। এ শিশুগুলো থেকে যাচ্ছে অন্ধকারের রাজ্যে।






মন্তব্য চালু নেই