মেইন ম্যেনু

ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছি, তবে কথা আছে: জুনায়েদ বাবুনগরী

শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়ায় সমর্থন দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী। তবে ফতোয়ায় এক থাকলেও ভিন্ন কোনও উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করলে একমত থাকতে পারবেন না বলেও মন্তব্য হেফাজত মহাসচিবের।

জানা গেছে, শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা উদ্যোগ নেয় ফতোয়া প্রকাশের। ফতোয়ায় সর্বসম্মতভাবে এক লাখ আলেম ও মুফতি ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলাকে ‘হারাম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮৫০ জন আলেম ও মুফতি ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন।

আরও জানা গেছে, ফতোয়ায় হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ছাড়া শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী, মুফতি আবদুল হালিম বোখারী, মুফতি মনসুরুল হক, আল্লামা সুলান জওক নদভী, আল্লামা আবদুর রহমানসহ উল্লেখযোগ্য আলেমরা স্বাক্ষর করেছেন। জঙ্গিবাদ নিয়ে মূল ফতোয়ার সঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দ, মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া, শায়খ জাকারিয়া রিসার্চ সেন্টার ও জামিয়াতুল আসআদ মাদ্রাসার ফতোয়াও সংযুক্ত করা হয়েছে।

ফতোয়া স্বাক্ষর প্রসঙ্গে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় ফরীদ উদ্দীন মাসউদ আমার সঙ্গে দেখা করছেন। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়া দেখিয়েছেন। সেখানে ফতোয়ার শিরোনাম হল, দ্বীন ইসলামে সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। এই ফতোয়ার ওপর আমি স্বাক্ষর করেছি। এটি তো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া। ইসলামে জঙ্গিবাদের স্থান নেই-এ বিষয়ে সকল আলেম ওলামাও একমত।

তবে ফতোয়ার ব্যবহার প্রসঙ্গে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এখন যদি উনি (ফরিদ উদ্দিন মাসউদ) অন্য উদ্দেশ্যে ফতোয়ার ব্যবহার করেন বা অন্য কোনও কার্যক্রম করতে চান সেসব বিষয়ে আমরা একমত হতে পারব না। জঙ্গিবাদের মানে কি-সন্ত্রাস, যদি সন্ত্রাস হয়, আমরাও এ বিষয়ে একমত। যে দশটি প্রশ্ন ফতোয়ায় আছে সেগুলো ঠিক আছে। একজন আলেম হিসেবে ফরীদ উদ্দীন মাসউদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি,বাস্তবতা কতটুকু জানি না। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে আমাদের সব সময় অবস্থান ছিল। আল্লাহর নবী সন্ত্রাস করেন নাই, একই সঙ্গে আল্লাহর নবী ইসলামী আন্দোলনও করেছেন। সাহাবী কেরামরা ও করেছেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে প্রয়োজনে ইসলামের পক্ষে দাবি-দাওয়া পেশ, ইসলামী আন্দোলন আমাদের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ বলা যাবে না। ইসলামী আন্দোলন এক কথা, সন্ত্রাসবাদ আরেক কথা। আবার জিহাদকেও সন্ত্রাস বলা যাবে না। জিহাদ সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাস জিহাদ নয়। বরং ইসলামী জিহাদই কেবল সন্ত্রাস দমন করার ব্যবস্থা। মহানবী (স.) সারা বিশ্বে সন্ত্রাস দমন করেছেন জিহাদের মাধ্যমে। এই মতামতের ওপর আস্থা থাকলে খুব ভালো। কে কে স্বাক্ষর করেছে আমি জানি না। অনেকে ওনার (ফরিদ উদ্দিন মাসউদ)সঙ্গে একমত না, এ কারণে হয়তো স্বাক্ষর করেননি। আমি স্বাক্ষর করেছি শুধু ফতোয়া হিসেবে। দেওবন্দের একটি ফতোয়া যদি আমার কাছে আসে, আমি স্বাক্ষর করব। যে ফতোয়া নিচ্ছেন, তার সাথে অন্য বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও কিন্তু কোরআন হাদিসের আলোকে শুদ্ধ হলে ফতোয়া স্বাক্ষর করতে হবে।

গুপ্ত হত্যা প্রসঙ্গে হেফাজত মহাসচিব বলেন, বর্তমানে যে গুপ্ত হচ্ছে এসবের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। যারা হত্যাকারী, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচার করতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতারের স্ত্রীসহ আরও যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে এগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু ইসলাম সমর্থন করে না বলে বসে থাকলে হবে না। যারা দোষী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আলেম ওলামাদের দায়িত্ব। -বাংলা ট্রিবিউন






মন্তব্য চালু নেই