মেইন ম্যেনু

ফাঁকা হচ্ছে ব্যস্ততম ঢাকা

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস শেষ। অফিস ছুটির পর দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিনটিতেও মিলেছে বাড়তি ছুটি। ফলে কার্যত শুরু হয়ে গেছে ছয় দিনের ছুটি। দীর্ঘ ছুটির আগে যা হয়, এবারও হয়েছে তা। নগরী থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে ভিড়ের কারণে গাড়ি চলতেই হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু নগরের ভেতরে দিনভর পথ চলা গেছে সাচ্ছন্দেই।

বিকাল পাঁচটার কিছু পর শাহবাগ থেকে মোটরসাইকেলে করে গাবতলী আসার পথে বাংলামোটর, ফার্মগেট, আসাদ গেট, শ্যামলী শিশু মেলা, কল্যাণপুরে খানিকক্ষণ থামতে হলেও গাবতলী আসতে সময় লাগলো আধা ঘণ্টারও কম। অফিস ছুটির এই সময়ে এই পথে সময় লাগে কমসে কম এক ঘণ্টা। কখনও বা তার চেয়ে বেশি।

বাংলামোটর মোড়ে সিগন্যালে মিনিট তিনেক আটকে থাকার পর পান্থপথ পারি দেয়া গেলো আটকে না থেকেই। এরপর ফার্মগেটে আবারও সামান্য সময় অপেক্ষা। সেখানে গাড়ি নয়, দেখা গেলো যাত্রীর চাপ। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম, তাই উঠতে পারছেন না অপেক্ষমানরা। শত শত যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো বাসের অপেক্ষায়।

এরপর খামারবাড়ি গোলচক্করে সামান্য জটলা পেরিয়ে আসাদগেট মোড়ে আবারও সিগন্যালের অপেক্ষা। তবে সেখানেও বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলো না।

পথে গণভবনের সামনে কথা হলো পুলিশের সার্জেন্ট ইসরাত জাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ১২টার পর থেকে শহরে যানজট পাইনি। বেশ স্বচ্ছন্দে আজ কাজ করছি। দুপুরের পর থেকে বেশ নির্বিঘ্নেই চলেছি।’

তার সঙ্গে কথা বলা শেষে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে সামনেও কিছুটা জটলা, তবে সেটাকেও যানজট বলা যাবে না। যাত্রী ডাকাডাকির চেষ্টায় রত লোকাল বাসের জন্য পেছনের গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলতে না পেরে কিছুটা সময় ধীরে চলতে হয়েছে। শ্যামলীতেও একই চিত্র দেখা গেলো।

আরও খানিকটা এগিয়ে কল্যাণপুরে বাসস্ট্যান্ডে গিয়েই দেখা গেলো আরেক চিত্র। বাড়ি যাওয়ার জন্য যাত্রীরা এসে ভিড় করে আছেন কল্যাণপুরে। দূরপাল্লার বাসে কাউন্টারগুলোতে আর যাত্রী ধরার জায়গা নেই। তাই বাকিরা দাঁড়িয়ে বা বসে আছেন বাইরে।

আরও খানিকটা এগিয়ে টেকনিক্যাল মোড় দেখা গেলো পুরোপুরি ফাঁকা। সেখান থেকে গাবতলী পর্যন্ত আর কোনো বাঁধাই পড়তে হলো না।

গাবতলীতে কথা হলো আরেক নারী সার্জেন্ট লিমা চিসিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মূল শহরে যানজট কমছে, কিন্তু শহর থেকে বের হওয়ার পরই যানজটে পড়ছে গাড়িগুলো।’ এর কারণ কী? জানতে চাইলে ওউ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু জায়গায় হাট, কিছু জায়গায় সড়ক সরু হয়ে গেছে।’

কেবল এই একটি পথ নয়। সহকর্মী গোলাম মোস্তফা বেলা ১১টার দিকে পল্টন থেকে বাসে করে কারওয়ানবাজার এসেছেন ২০ থেকে ২৫ মিনিটে। গত এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে এটা এক অসম্ভব কল্পনা ছিল। বিশেষ করে আগের দিন এইটুকু পথ পারি দিতে সময় লেগেছে দুই ঘণ্টারও বেশি।’

কমলাপুর থেকে মগবাজারে এসেছেন আরেক সহকর্মী শহীদুল ইসলাম শ্যামল। বেলা আড়াইটার দিকে এইটুকু পথ পারি দিতে তার সময় লেগেছে ২৫ মিনিটের মত। আগের দিনও তিনি এই পথ এসেছেন এক ঘণ্টারও বেশি সময়ে।






মন্তব্য চালু নেই