মেইন ম্যেনু

‘ফাঁদে ফেলে’ বাংলাদেশি পরিবারকে জিম্মায় নেয় আইএস

ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারকে ‘ফাঁদে ফেলে’ নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তুরস্ক থেকে উধাও পরিবারটি ‘নিরাপদ রয়েছে’- গত সপ্তাহের আইএস এমন তথ্য প্রকাশের পর শুক্রবার এ দাবি করেন ওই পরিবারের এক সদস্য।

ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরতলিতে বাস ছিল ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, তার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের ১০ সদস্যের। চলতি বছর বাংলাদেশ ঘুরে যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে ১১ মে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল থেকে উধাও হয়ে যায় পরিবারটি।

গণমাধ্যমে খবর আসে তারা আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত আবদুল মান্নানের আরেক পক্ষের পুত্র সেলিম হোসেন ব্রিটেনভিত্তিক আইটিভি নিউজকে জানান, তার পিতাকে ইস্তাম্বুলের একটি হোটেল থেকে জোর করে একটি গাড়িতে তোলা হয় এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে সিরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিরিয়া থেকে টেলিফোনে কথা বলার সময় তার পিতা ভীষণ কান্নাকাটি করেছেন। তার পিতা দ্বিধান্বিত, বিমর্ষ এবং তিনি প্রতিদিন কান্নাকাটি করছেন। তিনি শান্তিতে নেই।

সেলিমের দাবি, ঘটনার দিন তার পরিবার ইস্তাম্বুলে ছিলেন। এ সময় তাদের হোটেল কক্ষে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি পাসপোর্ট যাচাই করতে যায়। এরপর একে একে ওই পরিবারের ১০ সদস্যকে হোটেল ভবনের নিচে নামানো হয়। ওই ব্যক্তিরা আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রীকে সন্তান ও নাতি-নাতনীদের ছাড়াই ব্রিটেনে ফিরে যেতে বলে। কিন্তু, তারা রাজি হননি। এরপর ১২ জনকে দুই ভাগে হোটেলের বাইরে অপেক্ষমান দুটি গাড়িতে ওঠানো হয়।

এর আগে আইএসের পক্ষ থেকে ছবিসহ একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা আইএসে যোগ দিয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ ও শান্তি রয়েছে।

আইএস সদস্যদের মতো পিতা কেন ছবিতে একটি আঙুল প্রদর্শন করছেন এমন প্রশ্নে সেলিম বলেন, আইএসকে সমর্থন জানানোর জন্য নয়, বরং এটা আইএসের ‘প্রোপাগান্ডা’।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার কোনো ভাইবোনের মধ্যে মৌলবাদে জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ কখনোই দেখা যায়নি এবং তারা কখনো সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেননি। ইংল্যান্ডের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ ও তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

তথ্যসূত্র : দি ইন্ডিপেনডেন্ট।






মন্তব্য চালু নেই