মেইন ম্যেনু

ফিলিং ষ্টেশন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস পাচার হচ্ছে ভারতীয় সীমান্তে

মাসুদ আলম, কুমিল্লা থেকে : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলো থেকে দীর্ঘদিন ধরে মিটারের বাইরে চোরাই সংযোগ দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস পাচার হচ্ছে ভারত সীমান্তের বিভিন্ন উপজেলায়। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাগরাবাদ গ্যাস কোঃ লিমিটেডের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওইসব ষ্টেশনগুলো থেকে মাসে কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর অবৈধভাবে একই সাথে থাকা অর্ধশতাধিক সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তির কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দেশের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সড়কের দুই পাশে নয়টি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে আমজাদের বাজারে অবস্থিত ‘চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন লিঃ’ থেকে প্রতিদিনই চোরাই সংযোগ দিয়ে কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকে থাকা অর্ধশতাধিক ছোট বড় সিলিন্ডার ভর্তি করে গ্যাস পাচার হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের মাঝে বিভিন্ন আকারের ছোট বড় অর্ধশতাধিক সিলিন্ডার বোঝাই থাকে। সিলিন্ডারভর্তি ট্রাকগুলোর পিছনের অংশ ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। সবগুলো সিলিন্ডার আবার একটি লাইনে সংযুক্ত থাকে। ওই লাইনের মাধ্যমে সিলিন্ডারগুলোতে সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের অবৈধ লাইন দিয়ে গ্যাস ভর্তি করা হয়। চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের অবৈধ লাইনটি দক্ষিণ পাশে দেয়ালের সাথে ঢাকনা দেয়া আছে। পূর্ব থেকে যোগাযোগ থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলো আসলে ষ্টেশনের কর্মচারীরা লাইন সংযোগ দিয়ে গ্যাস ভর্তি করে। বিষয়টি যাতে অন্যান্য চালকরা ও সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারে সেজন্য নজেলের পাশে একটি ঢাকনা দেয়া থাকে।

গত ১১ জুলাই ট্রাক(চট্টমেট্রো-ট-১১-৪৭৭৩) ও ১৭ জুলাই কাভার্ডভ্যান(ঢাকামেট্রো-ট-১১-৫৫৬৭) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। অবৈধভাবে গ্যাস ভর্তির কারণে ওই ফিলিং ষ্টেশনে প্রকাশ্যে থাকা দুইটি নজেলে গ্যাস ভর্তি করতে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে গ্যাস ভর্তি করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অবৈধভাবে গ্যাসভর্তি কাভার্ডভ্যানগুলো রাঙ্গামাটি, ফকিটছড়ি ও বান্দরবনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলার সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

সুত্র জানায়, ‘২০১৩ সালে মিটার ট্যাম্পারিংয়ের কারণে বাগরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমজাদের বাজারস্থ ‘চিওড়া ফিলিং ষ্টেশন লিমিটেড’ ও কালিবাজারস্থ ‘খালেক সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন’ নামের দুটি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ করে দেয়। পরে উভয়টির মালিক ষ্টেশন বন্ধের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন(১৬৯৪৪/২০১২) দাখিল করলে ছয় মাসের জন্য বন্ধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। আদেশের সময় পেরিয়ে গেলেও ষ্টেশন দুটির কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। এ সুযোগে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গ্যাস পাচার করছে চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে সিএনজি অটোরিকশার কয়েকজন চালক জানান, ‘ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস ভর্তি করার কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে’।

এ ব্যাপারে বাখরাবাদ গ্যাস কোং লিমিটেডের জিএম (অপারেশন) আবুল হাসনাত বলেন, ‘অবৈধ সংযোগের বিষয়ে জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব। এবিষয়ে তিনি আরও তথ্যের জন্য জিএম(মার্কেটিং) এহসানুল হক পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু এহসানুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের মালিক আবদুল খালেক জানান, ‘যারা কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকভর্তি করে গ্যাস নেয় তাদের সরকারি লাইসেন্স আছে। তবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি উল্টো জিজ্ঞেস করেন, ‘লেখালেখির মাধ্যমে তার ক্ষতি করে লাভ কি?’।






মন্তব্য চালু নেই