মেইন ম্যেনু

ফুকুসিমা বিপর্যয়ের প্রথম লিউকোমিয়া সনাক্ত

জাপানের ফুকুসিমায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই প্রথম কোনো প্রাক্তন কর্মীর শরীরে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার এর অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। দেশটির এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চলতি দশকের শুরুর দিকে ভূমিকম্পের ফলে যে দূর্যোগ ঘটেছিল তা পরিষ্কার করার ফলে অনেকদিন বিকিরিত তেজস্ক্রিয়তার মধ্যে অবস্থানের ফলেই এই মরনঘাতী রোগের অবির্ভাব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে জানায়, ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাক্তন এক শ্রমিক লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এটাই ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের মধ্যে প্রথম কোনো শ্রমিক লিউকোমিয়া আক্রান্ত হলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ফুকুশিমা দূর্যোগের প্রাক্কালেই তারা সেখানে লিউকোমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছিল। দূর্যোগের চার বছর পর এই প্রথম সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

ত্রিশ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত ২০১২ সালের অক্টোবরে দূর্যোগের ঠিক পরপরই ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি ওই চাকরি থেকে অব্যহতি নেন। তার তিন বছর পর তার শরীরে এই লিউকোমিয়া সনাক্ত হল।

এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থেকে বিকিরিত তেজস্ক্রিয়তার ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনোরূপ ক্ষয় ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক শক্তির বিস্তার রোধে কাজ করে থাকে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিক্ষা চালানোর ওপর সকল প্রকার বিধি নিষেধ এবং নীতি মালা তৈরি করে থাকে।

উল্লেখ্য গত ২০১১ সালের মার্চে জাপানে সংগঠিত এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ফুকুশিমার এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই বছরই আগষ্ট থেকে তা পরিষ্কারের জন্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫,০০০ হাজার কর্মী তা পরিস্কার এবং সংস্কার করার কাজে নিয়োজিত ছিল।

ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিকিরণের ফলে এই প্রথম লিউকোমিয়া আক্রান্ত রোগি পাওয়া গেলেও ভবিষ্যৎ এর জন্য এটি একটি অশনি সংকেত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞগণ।






মন্তব্য চালু নেই