মেইন ম্যেনু

ফুটপাতে খাঁটি সরিষার তেলের মিল!

ভেজালের দেশে খাঁটি তেল খাওয়াতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খালেদা মাসুদ। গ্রামবাংলার কলুর ঘানি তিনি এনেছেন রাজধানীতে। রীতিমতো ফুটপাতে বসিয়েছেন ঘানি। তবে এটি গরু বা ঘোড়া চালিত নয়, চলছে ডিজেল ইঞ্জিনে (শ্যালোমেশিন)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত মতিঝিল এলাকায় দেখা গেল এই মেশিন। ভ্রাম্যমাণ মিল। টাটকা ও খাঁটি তেল কিনতে উপচে পড়ছে ভিড়। লোকজন সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতা ও তার সহিযোগীরা।

একটি মাঝারি সাইজের পিকআপে বসানো হয়েছে এই মিল। একজন সরিষা ঢালছেন, আরেকজন বিভিন্ন সাইজের প্লাস্টিকের বোতলে তেল সংগ্রহ করছেন। বোতল ভর্তি টাটকা সরিষার তেল তুলে দিচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে। দেশি সরিষার দানা থেকে তৈরি খাঁটি তেল কিনতে লিটার প্রতি গুণতে হচ্ছে ২০০ টাকা।

উদ্যোক্তা জানান, তিন কেজি সরিষা থেকে এক লিটার তেল পাওয়া যায়। মতিঝিলে সপ্তাহে একদিনই মিলবে এই তেল।রাজধানীর উত্তরা, বনশ্রী ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্নস্থানে সপ্তাহে একদিন করে তারা তেল বেচেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এর উদ্যোক্তা এসএম খালেদ মাসুদের। তিনি বলেন, কোনো সরকারই ভোগ্যপণ্য ভেজালমুক্ত করতে সফল হয়নি। এ সরকারও পারেনি। তাই ভেজালমুক্ত ভোগ্যপণ্য সরবারহের কাজকে বেগবান করতে তার এই ছোট্ট প্রয়াস।

তিনি জানান, চলতি বছরের গোড়ার দিকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে মেশিনটি তিনি কিনেন। সাথে কিনেন একটি পিকআপ।সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন সরিষা। এই মেশিনে দৈনিক প্রায় ১০০ লিটার তেল বের করা যায়।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। খাঁটি সরিষার তেল কিনতে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এখনতো ভেজালের যুগ। খাঁটি মনে করে কিনলাম। সরসারি সরিষা থেকে তেল তৈরি হচ্ছে, দেখতেও বেশ ভালো লাগছে। আশা করি, ব্যবহার ও খেতেও ভালো লাগবে।’

ব্যবসার কাজে ব্যাংকপাড়ায় এসেছেন কামাল উদ্দিন। ফুটপাতে দেখতে পেলেন, চোখের সামনে তৈরি হচ্ছে খাঁটি তেল। এ ঝাঁঝালো তেলে চোখে জল আসে। তাই তিনি তিন কেজি কিনলেন।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে কলুর ঘানি। এরইসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য আর ভেজালমুক্ত তেল। রাজধানীবাসীর ঘরে সেই খাঁটি সরিষার তেল পৌঁছে দিতেই এই প্রয়াস। তবে শুধু তেল নয়, সব খাবারকে ভেজালমুক্ত করার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খালেদ মাসুদ।






মন্তব্য চালু নেই