মেইন ম্যেনু

ফুলকপি যে সকল মারাত্বক রোগের মহা ঔষধ

সারা বছরই খাওয়া হয় নানা রকম সবজি। তবে তরতাজা সব সবজির আশায় শীত এলে মুখিয়ে থাকে সবজি প্রেমীরা। সুস্বাদু এসব সবজির আধিক্যও থাকে উল্লেখ করার মতো। শীতকালীন সবজি শুধু তরকারি হিসেবেই নয় খাওয়া হয় নানা পদের নাস্তা হিসেবেও। হাজার সবজির ভিড়ে ফুলকপি একটু সৌখিন হিসেবেই পরিচিত।

সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা ভেজে, নানান ধরনের সুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। রান্নাতে থাকে একটু বাড়তি আয়োজন। তাই তো আয়েসি রান্নার তালিকায় ভালোভাবেই ঠাঁই করে নেয় ফুলকপি।

ফুলকপি শুধু স্বাদে আর গন্ধে নয় পুষ্টিগুণেও সেরা। প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে আছে ২৫ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৪.৯৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.৯২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ২ গ্রাম, ফোলেট ৫৭ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ০.৫০৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪৮.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে ১৫.৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ই ০.০৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৯৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.২২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, জিংক ০.২৭ মিলিগ্রাম সহ আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান আমাদের শরীরে বিশেষভাবে প্রতিরক্ষা দেয়াল করে।

এছাড়াও কঠিন অনেক রোগকে প্রতিহত করতেও দারুণ উপকারী। আসুন জেনে নেয়া যাক সাধারন এই ফুলকপির অসাধারণ সব উপকারিতা সম্পর্কে —

ফুলকপিতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা। ক্যানসারের জীবানু প্রতিরোধ করতে ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন উপাদান গুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যানসারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধিও প্রতিহত করে।

হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়
হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে ফুলকপি বেশ সহায়ক। এর সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভেতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি।

অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি
সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ দহন হওয়া জরুরি। তবে দহনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফুলকপিতে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’, যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ভিটামিন এবং মিনারেল
শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। পাশাপাশি আছে ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে
ফুলকপিতে আছে কলিন (এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ এক ধরনের পানিজাতীয় পুষ্টি উপাদান) ও ভিটামিন-বি, যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলিন মস্তিষ্কের কগনিটিভ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অর্থাৎ এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও দ্রুত শিখতে সাহায্য করে। এছাড়া বয়সের কারণে স্মৃতিবিভ্রমের সম্ভাবনা এবং শৈশবে টক্সিনের প্রভাবে মস্তিষ্ক দুর্বলতা কমায়।

হজমে সহায়ক
ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ ও সালফার-জাতীয় উপাদান। এসব উপাদান খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

শক্তি সঞ্চার
ফুলকপিতে থাকা খাদ্যশক্তি দেহের দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তি সঞ্চার করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্যশক্তি। অপরদিকে ফ্যাট একদমই নেই।






মন্তব্য চালু নেই