মেইন ম্যেনু

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১৫ চিকিৎসকের মধ্যে ১১ পদই শূণ্য, ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যায়!!

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্বোধন করার সাড়ে ৩ বছর কেটে গেলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি ৫০ শয্যার। ফলে ৫০ শয্যার ভবনটি পড়ে রয়েছে অকারণে।
এদিকে উপজেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার অনুমোদন না হওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি না হওয়ায় মেঝের মধ্যেই রোগীদের বিছানা পেতে দিতে হচ্ছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় তাদের চিকিৎসাসেবা দিতেও হিমশিম ক্ষেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এ ছাড়া ৫০ শয্যার ভবনটিতে অপারেশন থিয়েটার কক্ষ থাকলেও সেখানে চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটারটি কোনো কাজে আসাছে না। এ জন্য এলাকার প্রসূতি রোগীদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের জন্য বেছে নিতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক অথবা উপজেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র পরিবারগুলো।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের মতো ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। যার ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে মূল ভবনের সঙ্গে একটি ৫০ শয্যার বাড়তি ভবন নির্মাণ করা হয়।

ভবনটি নির্মাণ শেষে গত ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. মোস্তাফিজুর রহমান ফলক উন্মোচন ও ৫০ শয্যা উন্নীতকরণের উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধন করার সাড়ে ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের অনুমোদন হয়নি। ফলে ৫০ শয্যার ভবন থাকলেও কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল ও ওষুধ সরবরাহ থেকে শুরু করে রোগীদের খাদ্য সরবরাহ হচ্ছে ৩১ শয্যা অনুযায়ী।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে ১জন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ১জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ২জন মেডিকেল অফিসার, ১জন জুনিয়র সার্জন গাইনী, ১জন মা ও শিশু, ১জন পুষ্টিবিদ, ১জন এ্যানেস্তেশিয়া, ১জন দন্ড চিকিৎসক ও ১জন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসকের পদ রয়েছে।

তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন, ১জন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২জন মেডিকেল অফিসার ও ১জন পুষ্টিবিদ। এ ছাড়া বাকী পদ শূণ্য রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন থেকে গাইনি, মা ও শিশু চিকিৎসক না থাকায় এই অঞ্চলের প্রসুতি মা ও শিশু রোগিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বাহিরের কোন প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে। এছাড়া ৭টি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে ৭জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১ জন মাত্র। ফলে উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছে না।

অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন থেকে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেটি মেরামত করার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে। যার ফলে রোগীদের সামান্য পরীক্ষার জন্যই যেতে হচ্ছে শহরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুর রহমান বলেন সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা অনুমোদনের জন্য কয়েক দফায় অনুরোধ স্বরূপ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তা অনুমোদন হয়নি। এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিনের পুরনো তাই একটি নতুন মেশিনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা আবেদন করা হয়েছে। এদিকে ফুলবাড়ী উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

এ ছাড়া পৌর শহরের কোল ঘেঁষে থাকা পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর, হরিরামপুর, মোস্তফাপুর ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর, কুশদহ ইউনিয়ন ও বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ফুলবাড়ী পৌর শহরের কাছে হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ওপর নির্ভরশীল। এ জন্য প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে থাকে অতিরিক্ত রোগীর ভিড়। তাই এলাকার বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার উন্নীতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই