মেইন ম্যেনু

ফেনীর সোনাগাজীতে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ৬ মাসের অন্ত:স্বত্তা

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের মধ্যম সুজাপুর হাজী আবদুস সালাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়ে এখন ৬ মাসের অন্ত:স্বত্তা। দীর্ঘদিন প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচারতো দূরের কথা উল্টো একাধিক মামলায় বিপর্যস্ত ওই পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সুজাপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ীর দিনমজুর আনার আহাম্মদের মেয়ে (১১) স্থানীয় হাজী আবদুস সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনির ছাত্রী। প্রতিবেশী ওমান প্রবাসী নিজাম উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (১৬) তাকে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষন করে। একপর্যায়ে কিশোরীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ জুলাই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সে অন্ত:স্বত্ত্বা বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অভিভাবকদের জানায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে রমজান মাসে সমাজের পঞ্চায়েত কমিটির লোকজন ও ইউপি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে তারা বিষয়টি সামাজিক ভাবে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেন। পরে ওই কিশোরির পরিবার ও এলাকাবাসী বিষয়টি সমাধানের চাপ প্রয়োগ করলে ১২ জুলাই আলাউদ্দিনের পরিবার নির্যাতিতাকে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। সমাজপতিদের চাপের মুখে ধর্ষক আলাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বৈঠকে বসতে রাজী হলে ২০ রমজান বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কিশোরীকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করলে আলাউদ্দিনের মা রোকেয়া বেগম বিয়ে করিয়ে ঘরে নেয়ার সম্মতি দেয়। উভয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় সমাজপতিরা ষ্ট্যাম্পে উভয় পরিবারের লোকদের থেকে এই মর্মে লিখিত নেন বর্তমানে তাদের দুইজনকে ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক বিবাহ পড়িয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কাবিন ও পুত্রবধুকে ঘরে তুলে নিবে আলাউদ্দিনের পরিবার। মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত ভরণ পোষন দেয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিয়ে পড়ানোর পর শালিসদাররা চলে গেলে রোকেয়া বেগম ফের হুমকি-ধমকি দিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে। এর দুইদিন পর রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনীর আদালতে সমাজপতিদের বিরুদ্ধে দুটি ও নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে দুটি মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও রোকেয়া বেগম তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে বেঁেধ রেখে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে নির্যাতিতার পিতা আনার আহাম্মদ কোন বিচার না পেয়ে হয়রানির স্বীকার হওয়ায় গত ২০ আগস্ট ফেনীর চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষক আলা উদ্দিন, বাবু, রোকেয়া বেগম, মোশারফ হোসেন, মো: হানিফ ও জরিনা বেগমকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতিতার পিতা আনার আহাম্মদ ও মাতা বিবি হাজেরা জানান, আমাদের মেয়েকে আলা উদ্দিন জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করলে মেয়েটি ছয় মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। তারা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
ইউপি সদস্য ইমাম হোসেন গোলাম মাওলা জানান, ধর্ষণের পর অন্ত:স্বত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করায় আলা উদ্দিনের মা হয়রানি করতে সমাজের ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সামাজিক অবক্ষয়রোধে সচেতনতার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো: নবীর হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনা তিনি শুনেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লূৎফুন নাহার জানান, দুইজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাৎক্ষনিক কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে সামাজিকভাবে বিষয়টি শেষ করার জন্য সমাজপতিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত; শালিশী বৈঠকের পর থেকে বখাটে আলাউদ্দিনের পরিবার ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে মামার বাড়িতে অবস্থান করছে।






মন্তব্য চালু নেই