মেইন ম্যেনু

ফের বেপরোয়া জেএমবি, চলছে টার্গেট কিলিং

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে আইএসের আনুকূল্য পেতে টার্গেট কিলিং ও নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বর্তমানে জেএমবিতে জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু নেতাও এখানে যোগ দিয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছেন, ক্লুলেস ঘটনায় জেএমবি জড়িত।

জেএমবি নেতাদের আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হত্যা, মিছিলে বোমা হামলা করেছে। বগুড়ার শিয়া মসজিদে হামলার জন্য তাদেরই দায়ী করছেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর সংগঠনটি আবারো বেপরোয়াভাবে একের পর এক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতি, ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাই, রাজধানীতে হোসনি দালানে বোমা হামলা, গাবতলীতে পুলিশ হত্যা, আশুলিয়ার শিল্পপুলিশ হত্যা এবং পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের ( জেএমবি) একটি গ্রুপই জড়িত। এমনকি মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে হামলারও পরিকল্পনা ছিল জেএমবির। কিন্তু গাবতলীতে পুলিশ হত্যার পর রাজধানীতে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।’

তিনি বলেন, ‘জেএমবি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা সাইদুর রহমান। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাসনিম। তাসনিম গ্রেপ্তার হওয়ার পর দায়িত্ব পান মাওলনা সাইদুরের পুত্র সায়েম ওরফে ফাহিম। তিনিও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে ফারুক নামে একজন গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। গ্রুপটির সঙ্গে ইন্ডিয়ান মুজাহিদের সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অপর একটি গ্রুপ শায়খ আব্দুর রহমান নিহত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় ছিল। গত বছরের শেষের দিকে গ্রুপটি সক্রিয় হয়। বর্তমানে তারাই নাশকতা চালাচ্ছে। বর্তমানে এই গ্রুপে জামায়াত-শিবিরের এক শ্রেণীর নেতারাও আছেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকার পর জেএমবি আবারো সংগঠিত হয়ে পরিকল্পিত হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। গত দুই বছর ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে জেএমবি। রাজধানী ঢাকা থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পুরো দেশকে ১২টি অঞ্চলে ভাগ করে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। একেকটি অঞ্চলে একেকজন আঞ্চলিক কমান্ডার দায়িত্ব পালন করছে। এক অঞ্চলের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের যোগাযোগ খুবই কম। কেন্দ্রীয়ভাবে তারা ঢাকা থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির আড়ালে তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। গত দুই বছরে আলোচিত ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা এলাকায় ল্যাংটা ফকিরের মাজারে রহমতউল্লাহ ওরফে ল্যাংটা ফকির ও তার খাদেম আব্দুল কাদেরকে হত্যা। ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট খুলনার খালিশপুরে কথিত ধর্মীয় নেতা তৈয়বুর রহমান ও তার কিশোর ছেলে নাজমুম মনিরকে গলা কেটে হত্যা। একই বছর ডিসেম্বর মাসে ঢাকার গোপীবাগে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি দাবিদার লুৎফর রহমান ফারুকসহ ৬ জনকে হত্যা, গত বছর ২৭ আগস্ট রাজধানীর রাজাবাজারে ইসলামি ফ্রন্টের নেতা মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা।

সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকেও গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও গাবতলি, কচুক্ষেত ও ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ হত্যা, এক সেনাসদস্যকে কুপিয়ে আহত করে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলাও চালায় জেএমবি। এতে দুই জন নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হয়।

সর্বশেষ বগুড়ার মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা এলাপাতাড়ি গুলি চালিয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আহত হয় আরো ৩ জন। এ ঘটনাতেও জেএমবি জড়িত বলে সন্দেহ গোয়েন্দা পুলিশের।

সূত্র জানায়, এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জেএমবি। নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিলিং মিশন ঠেকাতে পারছে না। ক্রমেই তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। মূলত তারা টার্গেট কিলিং নিয়ে মাঠে কাজ করছে। আর টার্গেট কিলিং ঠেকানো যায় না বলে পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মতামত দেন একাধিক কর্মকর্তা।

কর্মকর্তারা বলেন, জঙ্গিবিরোধী পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সময়ের প্রয়োজনেই গঠন করা জরুরি হয়ে পয়ে পড়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য এ ধরনের ইউনিট থাকলে জঙ্গিদের দমনে বিশেষ সহায়ক হয়।

র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রত্যেকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি। জেএমবির বিরুদ্ধে র‌্যাব সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।’ দ্রুত একটি ফলাফল পাওয়া যাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন এ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই