মেইন ম্যেনু

ফেসবুকের ছোঁয়ায় বদলে গেলেন কবি

উদাস মন আর এলোমেলো চুলে কবি ঘরে বেড়ান। কিন্তু এই কবির বেলায় বাড়তি যোগ হয়েছে, নোংরা পোশাক আর মলিন মুখ।

৩৫টি বছর এভাবেই কেটিয়েছেন ব্রাজিলের যাযাবর কবি রাইমুন্ড সোব্রিনহোর। কিন্তু আজ থেকে চার বছর আগে হঠান তরেই আধুনিতার ছোয়ায় হঠাৎই বদলে যান তিনি। আর এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের অবদানই বেশি। এই মাধ্যমটিতে যুক্ত হওয়ার পর সেই কবিকে এখন চেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে!

প্রতিদিন প্রকৃতি রুটিনে হেরফের হলেও বদলান না শুধু কবি রাইমুন্ড সোব্রিনহোর। ব্রাজিলের শহর সাও পাওলোর পথে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে কবিতা লিখছেন ভবঘুরে এই কবি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় রাস্তার পাশে, গাছের নিচে বা কখনো অন্যের বারান্দায় বসে হলেও কবিতাচর্চায় রত রয়েছেন তিনি।

রাইমুন্ডর কবিতা পত্রিকা বা বই আকারে প্রকাশিত না হলেও দুঃখ নেই তার। নেই আক্ষেপও। কবিতা লিখে মজা পান, তাই লেখেন। অবশ্য স্থানীয় ও কবিতাপ্রেমীরা কবির কাছে আসত। তাদের প্রেম, বিরহ-বিদ্রোহ নানা ধরনের কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দিতেন রাইমুন্ড। কত ব্যক্তি, ভক্ত বা সাহিত্যপ্রেমীকে যে নিজের কবিতা পড়ে শুনিয়েছেন তা সংখ্যায় গুনে শেষ করা যাবে না।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কোনো এক সময় একজন নারী ভক্ত এলেন কবিতা শুনতে। তাকে কবিতা পড়ে শোনালেন তিনি। আর সবার মতো শুধু কবিতা শুনেই বিদায় নেননি শায়া মন্তেইরো নামের ওই নারী। বরং রাইমুন্ডর কবিতার পাণ্ডুলিপি যেন সবাই পড়তে পারে সে ব্যবস্থা করলেন তিনি।

রাইমুন্ডর নামে ফেসবুকে ফ্যানপেজ খুলে দিলেন তিনি। দেখতে দেখতে অচেনা-অখ্যাত এই কবি বিখ্যাত হয়ে গেছেন। বিশ্বজুড়ে তার ফেসবুক বন্ধুর সংখ্যা এখন ৪০ হাজারের উপরে।

ফেসবুকের মাধ্যমে রাইমুন্ড শুধু কবি প্রতিভা মেলে ধরেননি, বদলে গেছে তার অনেক কিছু। লোকে এখন তাকে সম্মান দেয়। কাছে বা দূর থেকে তার কবিতার তারিফ করে। কোনো কবিতা ফেসবুকে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। সবই ভাল লাগে রাইমুন্ডর।

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বোধ হয় রাইমুন্ডকে আবেগতাড়িত করে একটি ঘটনা। তা হল জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ফিরে পেয়েছেন হারানো ভাইকে। এতে আনন্দিত তিনি। দুঃখের পর্ব শেষে রাইমুন্ড এবার লিখুন সুখের হাজারো কবিতা…। সূত্র: হাফিংটনপোস্ট






মন্তব্য চালু নেই