মেইন ম্যেনু

ফেসবুকে কাউকে আনফ্রেন্ড করার আগে বিপদ জেনে রাখুন

সাম্প্রতিক গবেষণায় তথ্য অনুয়ায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত থাকার পর আপনি কাউকে এড়িয়ে চলতে চাইলে তাতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ অনলাইনে সমস্যা সৃষ্টিকারীরা সামাজিকভাবে সবল হয়ে থাকে। আর এ কারণে তাদের আনফ্রেন্ড করাকে অনেকেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

তথ্যটি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদল। তারা জানান, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শক্তিশালী ব্যক্তিদের আনফ্রেন্ড করতে চান না বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে। মানুষ ক্রমে আগের তুলনায় বেশি অনলাইনে সময় ব্যয় করছে। আর এ কারণে অনলাইনে সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্কুল অব সোশাল সায়েন্সেসের গবেষক সারাহ বাগলাস বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় অনলাইনে সামাজিক নেটওয়ার্কের সমস্যাসৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে।’

এ গবেষণায় তারা ৫,১১৩ জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয় ৫২ জন ব্যবহারকারীর আইডি থেকে, যাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ৪৫ বছর। এ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের ১০০টি র‌্যানডম স্যাম্পল ‘ফ্রেন্ড’কে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাদরে অনলাইনে সংঘাত ও সম্পর্ক বিষয়ে নানা যোগাযোগের ভিত্তিতে।

এতে বোঝা যায়, ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা উত্তেজক বন্ধুদের ওপর চোখ রাখেন তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায়। অনলাইনে ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের সংঘাতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

এ বিষয়ে গবেষক বাগলাস বলেন, ‘এতে বোঝা যায় তারা সমস্যা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করেন না তাদের নিজস্ব সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে। কিন্তু একই সময়ে তাদের আনফ্রেন্ডও করেন না।’

গবেষকরা জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনফ্রেন্ড করা অনেক সময়ই বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে। আর এ কারণে মানুষ ঝুঁকি এড়াতে বন্ধু, পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি নিতে চায় না।’

এ গবেষণায় জানা যায়, অনলাইনে সমস্যা সৃষ্টিকারীরা সামাজিকভাবে জনপ্রিয় মনে হলেও বাস্তবে তাদের অনেকেই বন্ধু হিসেবে রাখতে চান না। যদিও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট ও ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা হওয়ার আশঙ্কার কারণে তাদের আনফ্রেন্ডও করেন না তারা। এ বিষয়ে গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির কনফারেন্সে।

অনেক ক্ষেত্রে আমরা ভাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাউকে আনফ্রেন্ড করার পর কোনো সমস্যা হবে কি না? ধারণাই ঠিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরক্তিকর কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধুদের আনফ্রেন্ড করার কারণে বহু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কা করে বহু মানুষই তাদের আনফ্রেন্ড করেন না।






মন্তব্য চালু নেই