মেইন ম্যেনু

ফেসবুকে জনপ্রিয় ১০টি পোস্ট যা আসলে সম্পূর্ণ নকল

গাঁধীর এই ছবিটি ফেসবুকে প্রায় সকলেই দেখেছেন। এই ছবি গাঁধীর নারীলোলুপতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জানেন কি, ছবিটি পুরোপুরি ফোটোশপড? নীচে রইল আসল ছবিটি।

ফেসবুকে প্রতিদিন অজস্র মানুষ অজস্র পোস্ট করে চলেছেন। তার মধ্যে বহু পোস্টেই প্রকাশ পায় কোনও অবিশ্বাস্য তথ্য। লাইক আর শেয়ারে শেয়ারে মুহূর্তের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেই পোস্ট। কিন্তু জানেন কি, এই জনপ্রিয় পোস্টগুলির মধ্যে অনেকগুলিই একেবারে ভুয়ো বা মিথ্যে? এখানে রইল এমন ১০টি ফেসবুক পোস্টের হদিশ যেগুলিতে সম্পূর্ণ মিথ্যে কোনও দাবি করা হয়েছে—

image (15)

১. এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় মহাত্মা গাঁধী:
গাঁধীর এই ছবিটি ফেসবুকে প্রায় সকলেই দেখেছেন। এই ছবি গাঁধীর নারীলোলুপতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জানেন কি, ছবিটি পুরোপুরি ফোটোশপড? নীচে রইল আসল ছবিটি।

image (14)

২. মহিলার সঙ্গে নৃত্যরত গাঁধীজি:
গাঁধীকে নিয়ে এই পোস্টটিও বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু কখনও ছবির গাঁধীর ডানহাতটি ভালভাবে খেয়াল করেছেন কি? একজন বৃদ্ধের হাত কি এতটা পেশিবহুল আর বলিষ্ঠ হতে পারে? আসলে এই মানুষটি আদৌ গাঁধী নন। ইনি একজন অস্ট্রেলীয় অভিনেতা, যিনি গাঁধীর মতো সেজে নাচ করতে গিয়েছিলেন একটি পার্টিতে। এটা সেই পার্টিরই ছবি।

image (11)

৩. দীপাবলির রাতে নাসার তোলা ভারতের উপগ্রহচিত্র:
এটি আদৌ নাসার উপগ্রহচিত্র নয়। বরং ভিআইআইআরএস-এর মাধ্যমে সংগৃহীত আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য। এবং এটি মোটেই দীপাবলির দিনে সংগৃহীত তথ্য নয়।

image (10)

৪. এক মা এক সঙ্গে ১১ বাচ্চার জন্ম দিয়েছেন:
এটি আসলে একটি হাসপাতালে আইভিএফ পদ্ধতিতে ১১টি বাচ্চার জন্ম নেওয়ার পরবর্তী ছবি। এরা ১১ জন আলাদা মহিলার সন্তান। আইভিএফ পদ্ধতিতে এতগুলি বাচ্চার জন্ম বিশেষ সাফল্য বলেই হাসপাতালের ডাক্তাররা শিশুগুলিকে পাশাপাশি শুইয়ে ছবি তুলেছিলেন।

image (9)

৫. কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কোকাকোলা আর পেপসি:
এই পোস্টে দাবি করা হয়, কোক আর পেপসিতে এত বিষাক্ত উপাদান রয়েছে যে কৃষকরা এই দুটি পানীয়কে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন। তথ্যটি আংশিকভাবে সত্যি। কারণ একজন কৃষক সত্যিই এই পানীয় দু’টি কীটনাশক হিসেবে সাময়িকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু তাতে ফসলের পোকারা মরেনি।

image (8)

৬. ইউনেস্কো ‘জন গণ মন’কে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতীয় সংগীত বলে ঘোষণা করেছে:
ইউনেস্কো ‘জন গণ মন’কে কোনওদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতীয় সংগীতের তকমা দেয়নি। ইউনেস্কো কি রিয়ালিটি শো-এর বিচারক নাকি যে, বসে বসে বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীতের ভাল-মন্দ বিচার করবে?

image (7)

৭. দু’মুখো আয়না চিনতে আয়নায় একটা আঙুল ছোঁয়ানোই যথেষ্ট:
দু’মুখো আয়নায় বা টু ওয়ে মিরর-এ আঙুল ছোঁওয়ালে আঙুল আর তার প্রতিবিম্বের মধ্যে কোনও ব্যবধান থাকে না, এমনটাই দাবি করা হয় এই পোস্টে। এই প্রক্রিয়ায় সত্যিই কোনও দু’মুখো আয়নাকে চিহ্নিত করা যাবে কি না, তা নির্ভর করে আয়নাটি কতটা পুরু, আলোর পরিমাণ কেমন, আয়নার আয়তন কেমন— এই সমস্ত বিষয়ের উপর। সবক্ষেত্রে এই আঙুল ছোঁওয়ানোর প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না।

image (6)

৮. ভারতের সমস্ত অন্ধ মানুষ ১১ দিনে দৃষ্টি ফিরে পাবেন যদি আমরা সকলে মৃত্যূত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার নিই:
পোস্টের তথ্যগু‌লি মোটামুটি ঠিক, কিন্তু ঘটনা হল, প্রতিদিন ৬২ হাজার মৃত মানুষের চক্ষু সংরক্ষণ করা এবং এতগুলি মানুষকে চক্ষুদানের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশন করার মতো পরিকাঠামো আমাদের দেশে আদৌ নেই। কাজেই আমরা সকলে চক্ষুদানের অঙ্গীকার নিলেও ১১ দিন পরে অজস্র অন্ধমানুষ আমাদের দেশে থেকে যাবেন।

image (5)

৯. পেঁপে গাছের পাতা খেলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডেঙ্গু‌ সেরে যায়:
পেঁপে গাছের পাতায় ডেঙ্গু প্রতিকারের কিছু গুণ নিশ্চয়ই রয়েছে, কিন্তু পেঁপে পাতা এমন কিছু ধন্বন্তরি নয় যে তা খেলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডেঙ্গু সেরে যাবে।

image (4)

১০. কালো দাগওয়ালা কলা খেলে ক্যান্সার সেরে যায়:
এমনটা যদি সত্যিই হত, তাহলে ক্যান্সারের চিকিৎসায় আর লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করার প্রয়োজন হত না। কালো দাগওয়ালা, কাঁচা, পাকা কোনও কলা খেলেই ক্যান্সার সারে না। বরং পাকস্থলী বা কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ডাক্তাররা সাধারণত কলা এড়িয়ে চলতে বলেন।






মন্তব্য চালু নেই