মেইন ম্যেনু

ফেসবুকে মিষ্টির ছবি দিয়ে জমজমাট ব্যবসা !

নতুন মোবাইল কিনে ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। হঠাৎ খেয়ালে দোকানের নানা ধরনের মিষ্টির ছবি পোস্ট করতেও শুরু করেন। প্রচুর লাইক, কমেন্ট তো বটেই, মিষ্টির অর্ডাওেও জুটে যায় অনলাইনেই। তার পর থেকে দোকানে সাক্ষাতে এসে মিষ্টি কেনাবেচা তো রয়েইছে ওয়েব-জালেও বিক্রিবাটা ভালই চলছে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের কালনার দেবরাজ বারুই। হাটকালনা পঞ্চায়েতের নিভুজিবাজার মোড়ে দোকানে বসে মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতেই বললেন, ‘ফেসবুকের বন্ধুর কথায় যুক্তরাজ্যেও পাঠিয়েছি মিষ্টি।’

এর মধ্যেই ফেসবুকের মাধ্যেমে প্রায় হাজার তিরিশেক টাকার মিষ্টির বরাত পেয়েছেন বছর পঁচিশের ওই তরুণ। অনেকে অর্ডার না দিলেও মিষ্টির ছবি দেখে পছন্দ করে দোকানে এসে নিয়ে গিয়েছেন বলে জানান তিনি। দেবরাজ বলেন, ‘বাঙালির মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা তো বরাবরের। আমার পোস্ট করা রসগোল্লা, মাখা সন্দেশ, লাড্ডুর ছবিতে অনেকেই লাইক, কমেন্ট করেন। অনেকে বলেন ছবি দেখে জিভে জল আসছে। উৎসাহ দেখে আরও ছবি পোস্ট করি।’ এর পরেই বাড়তে থাকা বন্ধুর সংখ্যার মাঝে মিতা ছেত্রী নামে এক জনের সঙ্গে আলাপ হয় দেবরােজর। ফেসবুকে ফোন নম্বর নিয়েই মিতা ফোন করে জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন। এখান থেকে মিষ্টি নিয়ে যেতে চান। দেবরাজবাবুর কথায়, ‘প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। উনি ছবি দেখে কোন মিষ্টি কতখানি পাঠাতে হবে তা জানান। এপ্রিলের গোড়ায় হাওড়া স্টেশনে মিতাদেবীর এক আত্মীয়ের হাতে ১০০টি রসগোল্লা, ১০০টি বাদাম বরফি, লাড্ডু, প্যাঁড়া তুলে দিই। পরে মিষ্টি পেয়ে ধন্যবাদ জানান উনি।’ তবে এখন শুধু মিতাই নন নানা রাজ্য থেকেও মিষ্টির বরাত আসছে দেবরাজের কাছে। শিলিগুড়ির এক বিয়েবাড়িতে কয়েকশো রসগোল্লা পাঠানোরও বরাত পেয়েছেন।

দেবরাজের মিষ্টির মূল কারিগর তার মামা, কল্যাণীর বাসিন্দা অশোক বারিক। তিনিও বলেন, ‘দোকানে নতুন মিষ্টি এলেই ভাগ্নে তড়িঘড়ি ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দেয়। এলাকার অনেকেও ছবি দেখে মিষ্টি কিনতে আসেন।’ দোকান গিয়েও দেখা যায়, অনেকেই বলছেন ‘সেদিন যে ছবিটা দিলেন সেই মিষ্টিটা কই’, বা ফোনে ছবি দেখিয়ে বলে যাচ্ছেন ‘কাল এটা ৩০ পিস লাগবে’। আর খরিদ্দারদের আব্দার মেটাতে থাকেন দেবরাজ।

শহরে বছর ত্রিশের এক ব্যবসায়ী পার্থপ্রতিম ঘোষ ফেসবুকের আলাপে স্বপ্ন দেখছেন জোহানেসবার্গ যাওয়ার। তিনিই জানান, ফেসবুকে আলাপ হয় জোহানেসবার্গের এক দর্শনের শিক্ষক পিটোরিয়ার সঙ্গে। নানা কথায় বন্ধুত্বও হয়ে যায়। মাস তিনেক আগে পার্থবাবুর বাড়ির কালীপুজোর কথা শুনে সটান এসে হাজির হন পিটোরিয়া। দু’দিন কাটিয়ে এ শহরের বহু কিছু দেখে ফিরে যান। যাওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে গিয়েছেন তাকেও। পার্থবাবু বলেন, ‘ভাবছি এক বার ঘুরে আসব।’

সূত্র: এবিপি আনন্দ






মন্তব্য চালু নেই