মেইন ম্যেনু

ফেসবুক লাইভে ১১ মাসের মেয়েকে মেরে আত্মঘাতী বাবা, স্ত্রীয়ের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এই একটি কারণে

স্ত্রীয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল এক দিন আগেই। তার পর নিজের বড় মেয়ে এবং স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও শান্ত করতে পারেননি নিজের মনকে। বেছে নিলেন চরম পথ। নিজের বড় মেয়েকে হত্যা করার পর নিজেও আত্মঘাতী হলেন। আর পুরো ঘটনাটা ফেসবুক লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং-এর তুলে ধরলেন বিশ্ববাসীর কাছে।

থাইল্যান্ডের ফুকেট শহরে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। থাই সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী পুরুষের নাম ওয়াংতেলে। বছর কয়েক আগে জিরানাস নামের তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দু’টি সন্তানের জনক-জননীও হয়েছিলেন তাঁরা। দাম্পত্যের প্রথম কয়েক বছর সুখেই কেটেছিল ওয়াংতেলে-জিরানিয়ার। কিন্তু তার পরেই সমস্যা দেখা দেয়।

জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক কালে ওয়াংতেলে সন্দেহ করছিলেন যে, জিরানাস অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের নিত্য কলহও হতো। কিন্তু গত রবিবার তাঁদের বাদানুবাদ চরমে পৌঁছয়। আত্মঘাতী হওয়ার হুমকি দেন ওয়াংতেলে। স্ত্রীকে এবং বড় মেয়েকে বাড়ি থেকে বেরও করে দেন তিনি।

কিন্তু জিরানাস বোধ হয় কল্পনাও করতে পারেননি, তাঁর স্বামী কী ভয়াবহ পরিকল্পনা মনের মধ্যে পোষণ করছেন। সোমবার দুপুর বেলা ওয়াংতেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু করেন। দু’টি ভিডিও পর পর লাইভ স্ট্রিম করেন তিনি। প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিজের ১১ মাসের কন্যা সন্তানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করছেন ওয়াংতেলে। তার কিছু ক্ষণ পরে দ্বিতীয় ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওয়াংতেলে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়ছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ফুকেটের একটি বহুতল থেকে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করে থাই-পুলিশ।

ওয়াংতেলের লাইভ ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে শোরগোল পড়ে যায়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রথম ভিডিওটি ১১২০০০ বার এবং দ্বিতীয় ভিডিওটি ২৫৮০০০ দেখা হয়ে যায়। তার পর থাইল্যান্ডের মিনিস্ট্রি অফ ডিজিটাল ইকোনমির পক্ষ থেকে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিওটি সরিয়ে নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
কিছু দিন আগে আমেরিকার ক্লিভল্যান্ডে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি লাইভ স্ট্রিমিং-এর মাধ্যমে কয়েক জনকে হত্যা করার দৃশ্য ফেসবুকে সম্প্রচার করেছিল। থাই-পুলিশ মনে করছে, সেই ঘটনার দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিলেন ওয়াংতেলে।






মন্তব্য চালু নেই