মেইন ম্যেনু

ফ্ল্যাশিং মিডোয় বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম

স্পোর্টস ডেস্ক, বাংলামেইল২৪ডটকম

ঢাকা: ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সেরেনা উইলিয়ামস। এক পঞ্চিকাবর্ষে চার চারটি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মহা সুযোগ তার সামনে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফরাসি ওপেন এবং উইম্বলডন জেতা হয়ে গেছে মার্কিন কৃষ্ণকলির। বাকি শুধু ইউএস ওপেন। এই শিরোপাটি জিততে পারলেই বছরের বৃত্তপূরণ হয়ে যাবে তার।

ফ্লাশিং মিডোয় নামার আগে তাই কোনই চাপ অনুভব করছেন না সেরেনা উইলিয়ামস। বরং, নিজ দেশের মাটিতে টুর্নামেন্ট বলে ফেভারিটের তকমা এমনিতেই পেয়ে গেছেন। এখন শুধু পুরো বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই মূল ব্যাপার। মারিয়া শারাপোভা, পেত্রা কেভিতোভা, সিমোনা হালেপ কিংবা ক্যারোলিন ওজনিয়াকিরা প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়তে পারেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সেরেনার সামনে কতটুকু দাঁড়াতে পারেন, সেটাই দেখার।

ইউএস ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও কিন্তু সেরেনা উইলিয়ামস। সে হিসেবে টানা চারটি গ্র্যান্ডস্লাম ইতিমধ্যে জিতে ফেলেছেন। তবে সেটা গত মৌসুমসহ হিসেব করলে। কিন্তু এক মৌসুমে টানা চারটি গ্র্যান্ড স্লাম, ১৯৮৮ সালে স্টেফি গ্রাফের পর আর কোন মহিলা টেনিস তারকা জিততে পারেনি। প্রায় ২৭ বছর পর এবার সেই উজ্জ্বল সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে সেরেনা।

মহিলা টেনিসের ইতিহাসে চতুর্থ তারকা হিসেবে এই বিরল নজিরটি গড়তে পারবেন সেরেনা। একই সঙ্গে স্টেফি গ্রাফের ২২টি গ্র্যান্ড স্লামের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। সামনে থাকবেন শুধু আরেক আমেরিকান মার্গারেট কোর্টস। নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম রয়েছে তার নামের পাশে। সেরেনা পিছিয়ে থাকবেন তার চেয়ে আর মাত্র দুটি।

এমন অসাধারণ এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে সেরেনা বলেন, ‘আমি কোন চাপই অনুভব করছি না। যদি আমি তেমন কিছু মনেই আনি তাহলে চাপটা অনুভব হবে। সত্যি সত্যি এমন কিছু আমি অনুভবই করছি না। আমি এখানে এসেছি পারফর্ম করতে এবং নিজের সেরাটা নিংড়ে দিতে।’ নিজের রেকর্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই সব সময়ই নতুন কোন রেকর্ড জন্ম দিতে। তাহলেই কেবল অন্য কেউ আমাকে ধরার চিন্তা করবে।’

টুর্নামেন্টের প্রথম বাছাইও সেরেনা উইলিয়ামস। প্রথম রাউন্ডেই তিনি মুখোমুখি হবে রাশিয়ান ভিতালিয়া দিয়াশেঙ্কোর। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সিমোনা হালেপ। মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের ম্যারিনা ইরাকোভিকের। গ্ল্যামার গার্ল মারিয়া শারাপোভা হলেন তৃতীয় বাছাই। প্রথম রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের দারিয়া গ্যাব্রিলোভার। মেয়েদের এককে সেরা ১০ বাছাইয়ের বাকি তারাকারা হলেন চতুর্থ ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, পঞ্চম পেত্রা কেভিতোভা, ষষ্ঠ লুসিয়া শাফারোভা, সপ্তম অ্যানা ইভানোভিচ, অষ্টম ক্যারোলিনা প্লিসকোভা, নবম গ্যারবিন মুগুরোজা এবং দশম কার্লা সুয়ারেজ নাভারো।

পুরুষ এককে বরাবরের মতই শীর্ষে রয়েছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ। যদিও ইউএস ওপেন ভাগ্য তার খুব একটা ভালো না। এমনকি গত বছর তো সব তারকাকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার অখ্যাত ম্যারিন সিলিস। এবারের টুর্নামেন্টে তিনি নবম বাছাই। জকোভিচের পেছনেই, অথ্যাৎ দ্বিতীয় বাছাই রজার ফেদেরার। টানা ১৬তমবার খেলতে এলেন ইউএস ওপেন। শিরোপা জিতুক না জিতুক, ১৬বার একটি টুর্নামেন্ট খেলতে পারাও অনেক বড় বিষয়।

স্প্যানিশ তারকা নাদাল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন অষ্টম বাছাই হিসেবে। তার আগে রয়েছে ডেভিড ফেরার (৭ম), টমাস বার্ডিচ (৬ষ্ঠ), স্ট্যান ভাভরিঙ্কা (৫ম), কেই নিশিকোরি (৪র্থ) এবং অ্যান্ডি মারে (৩য়)।

বরং এবার নাদালের জন্যই সবচেয়ে বেশি হুমকি। কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হতে পারেন এক নম্বর নোভাক জকোভিচের। রাফাকে টপকে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করতে পারলে চতুর্থ বাছাই কেই নিশিকোরি কিংবা গতবার ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন মারিন চিলিচের মুখোমুখি হবেন জোকার।






মন্তব্য চালু নেই