মেইন ম্যেনু

বইমেলায় আঁকা-আঁকির নামে চাঁদাবাজি, নাকাল দর্শনার্থীরা

পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে উৎসবের রঙ তুলির ছোঁয়ায় লেগে যায় তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরদের হাতে-মুখে। বিশেষ করে স্টোডিয়ামে খেলা দেখতে গেলেতো একরকম রীতিই হয়ে গেছে।

এই আঁকা-আঁকির ‘উৎসবটা’ আরো বেশি চোখে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এখান চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করার জন্য রঙ-তুলি নিয়ে নেমে যান রাস্তায়। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরদের হাতে-মুখে এঁকে দেন ফুল, পাখি, জাতীয় পতাকা, শহীদ মিনার প্রভৃতি ছবি।

তবে বিষয়টা এখন আর উৎসবের পর্যায়ে নেই। একুশে বইমেলাতে গেলেই বিষয়টি খোলাসা হয়। বইমেলায় ঢুকতে গেলেই বেশ কয়েকজন যুবক হাত ধরে টানাটানি শুরু করেন হাতে কিছু এঁকে দেয়ার জন্য। তারা বিষয়টিকে এখন ‘সখ’ থেকে উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় তারা না কোনো প্রতিষ্ঠানের, না আছে তাদের আঁকা-আঁকির কোনো প্রশিক্ষণ।

অভিযোগ উঠেছে, আঁকা-আঁকির জন্য তারা বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকারক ক্যামিকেল দিয়ে সহজ রঙ বানিয়ে ব্যবহার করছে আঁকার কাজে। ইদানিং বেশির ভাগকেই দেখা গেছে সরাসরি মার্কার পেন ব্যবহার করে গায়ে আঁকছে। যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, হতে পারে চর্মরোগও।

এবিষয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বাবুল সরকার বলেন, ‘মার্কার পেনের কালিতে যে ধরনের ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয় তা যদি মানুষের ত্বকে লাগানো হয় তা থেকে চামড়ায় গুটি ওঠা থেকে শুরু করে চুলকানি এবং এক সময় ইনফেকশন হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটা সবচেয়ে বেশি।’

স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ছাড়াও এই ভুয়া অঙ্কন শিল্পীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলায় আসার টিএসসি এবং দোয়েল চত্বর এই দুটি রাস্তার মাথাতেই অবস্থান করে এরা (ভুয়া শিল্পীরা)। দর্শনার্থীরা যখন পায়ে হেঁটে মেলায় দিকে যান তখনি শিকার হন এদের। বিশেষ করে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা। ভুয়া শিল্পীরা এক রকম জোড় করেই আঁকে মানুষের হাতে অথবা মুখে এবং তারপর বকশিশ হিসেবে দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা। চক্ষু লজ্জায় পড়ে সবাইকে দিতে হয় বকশিশ। আর যদি কেউ আঁকাতে রাজি না হন তখন তাদের অকথ্য ভাষায় গালি দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে এই ভুয়া শিল্পীদের বিরুদ্ধে।

এমনি একজন মালিবাগ থেকে আসা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমি দোয়েল চত্বর দিয়ে মেলায় ঢোকার সময় কিছু ছেলে আমার সামনে এসে বলে আঙ্কেল একুশের শুভেচ্ছা এঁকে দেই। আমি তখন বললাম, আমার লাগবে না, একুশের আবার শুভেচ্ছা কি? তখন তারা জোড় করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ফকিন্নি বলে গালি দেয়।’

আরেকজন ভোক্তভোগী হলেন হাসান মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আমার দুই ছেলে, শ্যালিকা এবং আমার স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় আসি। আমরা যখন পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে দিয়ে মেলায় যাব ঠিক তখন দুটি ছেলে এসে বলল, ভাইয়া দাঁড়ান বাচ্চাদের হাতে একুশ লেখে দেই। তো তারা একে একে আমাদের সবার হাতে মার্কার পেন দিয়ে লিখে দিলো এবং সবশেষে আমার কাছে পাঁচশত টাকা দাবি করলো। তারপর অনেক বলে কয়ে তিনশত টাকা দণ্ড দিলাম।’

এই সকল ভুয়া শিল্পীদের দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাজারিবাগ থানার ইন্সপেকটর অব অপারেশন মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা এই ধরণের কাজ বর্দাস্ত করবো না। আমরা যদি পাই সাথে সাথে গ্রেপ্তার করবো।’ বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই