মেইন ম্যেনু

বউ বেশি সুন্দরী হলে যেসব সমস্যা হয়

আমাদের সমাজে বিয়ের বাজারে ‘ডানা কাটা পরীর’ মত বউয়ের কদর অনেক বেশি। আর তাই যেমন করেই হোক একজন সুন্দরী বউ জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকেন প্রায় সব পুরুষই। কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয় যখন অন্যদের চোখে স্বামীর চাইতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন স্ত্রী। বউ সুন্দরী হলে স্বামীর বা সুন্দরী বউয়ের যে ধরনের সমস্যা গুলোর মুখোমুখি হতে হয় অনেককে:

পারিবারিক সমস্যা
সুন্দরী মেয়েদের অভিভাবকরা তাদের মেয়ের জন্য সুন্দর ছেলে খুঁজে থাকেন। আর তাই পাত্রের চেহারা যদি ভালো না হয় তাহলে তাকে মেয়ের পরিবার থেকে নানান রকম আপত্তিকর কথা শুনতে হতে পারে। আবার বিয়ে হয়ে গেলেও বউয়ের বাবার বাড়িতে আপনার মূল্যায়ন খুব একটা করা নাও হতে পারে। তাছাড়া শালিকাদের তাচ্ছিল্য ভরা হাসির মুখেও পড়তে পারেন।

সামাজিক বিতর্ক
বউ যদি বরের চাইতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয় তাহলে নানান রকমের কটুক্তি, বিতর্কও হয়। এক্ষেত্রে সমাজের মানুষজন বলা বলি করতে থাকে এতো সুন্দর মেয়েটা এটা কি বিয়ে করেছে কিংবা দুজনকে একদমই মানাচ্ছে না! এদিকে শ্বশুর বাড়িতেও আশে-পাশের লোকজন বউয়ের কানেও নানাকথা শুনায়-‘এত সুন্দর বউয়ের জামাই দেখতে ক্যামন, কি দেখে বিয়ে দিল বা করল এই জামাইকে, বর-কনে একটুও মানায়নি’ ইত্যাদি নানা কথা।সমাজের মানুষের এসব বিতর্ক চাইলেও সহজে এড়ানো যায়না।

অহেতুক সন্দেহ
স্ত্রী খুব বেশি আকর্ষণীয় ও সুন্দরী হলে পুরুষদের মনে অমূলক সন্দেহের জন্ম নিতে পারে। স্ত্রীর বন্ধু, সহকর্মীদের কে নিয়ে অহেতুক মনের মাঝে নানান রকম অমূলক সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে এক্ষেত্রে। বর দেখতে অসুন্দর হলে মনের মধ্যে সব সময় স্ত্রীকে হারানোর ভয় কাজ করে, তার চেয়ে সুদর্শন পুরুষের দিকে আবার স্ত্রী আকৃষ্ট হলো কি-না।আত্মবিশ্বাসের অভাবে এরকম ভেবে থাকে।কিন্তু এরকম ভাবা ঠিকনা।বর দেখতে যেমনই বা যত খারাপই হোক তার ভাল ব্যবহার, সততা, বিশ্বাস ও ভালবাসা দিয়ে স্ত্রীকে বোঝাতে হবে ভেতরের সৌন্দর্যই আসল।এবং সে ভাল মন ও সৎ চরিত্রের অধিকারী অর্থাৎ সে-ই সেরা।স্বামীর আরও বোঝাতে হবে- স্ত্রীকে তার চেয়ে বেশি ভাল কেউ বাসতে পারতো না।

হীনমন্যতা
স্ত্রী যদি আপনার চাইতে আকর্ষণীয় হয় তাহলে স্বামী সারাক্ষণই হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন। নিজের অজান্তেই তার মন হীনমন্যতায় ভোগা শুরু করে। ফলে নানান রকম সামাজিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে সে মানুষজনের সামনে যেতে চাইবেন না। মনের কোনো এক কোণে স্ত্রীর প্রতি হিংসা জন্মে যেতে পারে।এত খুজেঁ সেরা সুন্দরী বিয়ে করে ভুল ভাবনা ও দূর্বল মানসিকতার কারণে সেই বেশি সৌন্দর্য্যই কাল হয়ে দেখা দিতে পারে।

বন্ধু থেকে শত্রু
স্ত্রী খুব সুন্দরী হলে স্বামীর বন্ধুরাই শত্রুতে পরিণত হতে পারে।স্বামীর খুব কাছের বন্ধুরাই নতুন বউয়ের সাথে আলাপ করতে চাইতে পারে। বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গ পাওয়ার জন্য যখন তখন সুজোগ খুঁজতে পারে তারা।এমনকি বন্ধুর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার সুন্দরী স্ত্রীর সামনে বন্ধুকে ছোট করারও চেষ্টা করতে পারে।এক্ষেত্রে নতুন বউয়ের হয় যত জ্বালা স্বামীর বন্ধুদের সাথে কথা কম বললেও সবাই অসামাজিক বলে কথা শুনাতে ছাড়েনা, আবার বেশি কথা বললেও কেউ বা স্বামী স্ত্রীকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে পারে।bbতাই নতুন বউ অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেনা কেমন আচরণ করবে।বউয়ের পক্ষে এমন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়া কষ্ট হয়। এক্ষেত্রে স্বামীদেরই উচিত উদার মনের পরিচয় দিয়ে স্ত্রীকে সাহায্য করা, কার সাথে কিভাবে মিশতে হবে বলে দেয়া।

নিরাপত্তাহীনতা
স্ত্রী খুব সুন্দরী ও আকর্ষণীয় হলে স্বামীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের মনে সবসময় স্ত্রীকে হারানো ভয় কাজ করে। তাই সম্পর্ক নিয়ে সারাক্ষণ উৎকন্ঠায় থাকেন তারা। কিন্তু এভাবে মনে মনে উল্টা-পাল্টা চিন্তা করে মানসিক শান্তি নষ্ট না করে স্ত্রীর সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। কোথাও সমস্যা মনে হলে খোলা-মেলা আলোচনা করে পরিষ্কার থাকুন।

একটা কথা সব সময় স্বামীদের মাথায় রাখা উচিত- ‘ স্ত্রী মা-বাবা,ভাই-বোন সবাইকে ছেড়ে আপনার কাছে এসেছে, স্বামীকে কিছুই ছাড়তে হয়নি।তাই স্ত্রীকে সব সময় সন্দেহের চোখে না দেখে ভালবাসুন, নিজে আত্মবিশ্বাসী হোন,স্ত্রীকেও বিশ্বাস করুন।কারণ বিশ্বাস আর ভালবাসাই হচ্ছে- সংসারে মূলভিত্তি, সুখের চাবিকাঠি।






মন্তব্য চালু নেই