মেইন ম্যেনু

বগুড়ায় পেঁয়াজের কেজি এক টাকা!

বগুড়ায় হঠাৎ করে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। আমদানি বেশি ও বিক্রি না হওয়ায় পেঁয়াজের বস্তায় পচন ধরায় আড়তদাররা কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গত দুদিন ধরে এখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ৫ টাকা। তবে আড়তে এক টাকা থেকে দেড় টাকা কেজি। দাম কম হওয়ায় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। অনেকে রোজার জন্য বেশি করে কিনে রাখছেন।

শনিবার সকালে শহরের কাঁচামালের বড় বাজার ফতেহআলী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ৩০ থেকে ৩১ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাশাপাশি একটু পচন ধরা আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি থাকায় এক কেজি পেঁয়াজের মূল্য এক থেকে দেড় টাকা করে পড়ছে।

লক্ষ্মী ভাণ্ডার আড়তের কর্মচারী মাহিদুল ইসলাম জানান, এবার এলসির মাধ্যমে ভারতীয় পেঁয়াজ বেশি আমদানি হয়েছে। বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমের কারণে আড়তের গুদামে থাকা পেঁয়াজের বস্তায় পচন ধরেছে। তাই ভাল পেঁয়াজ ১০ টাকা ও পচন ধরা পেঁয়াজ এক থেকে দেড় টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে মহাজনের অনেক লোকসান হচ্ছে।

শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা বিশেষ করে নারীদের উপচে পড়া ভিড়। সকলে পেঁয়াজ কিনছেন। প্রতি কেজি ৫ থেকে ৭ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় সামনে রোজার জন্য কেউ কেউ এক মণ পর্যন্ত কিনছেন।

দোকান মালিক লিখন শেখ জানান, চাহিদা কম থাকায় আড়তদাররা কম দামে পেঁয়াজ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি সেখান থেকে এনে ভাল পেঁয়াজ ৭ টাকা ও একটু খারাপ ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তিনি গত দুদিনে অন্তত ১০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। পাশের দোকানি মাক্কু শেখ একই কথা জানালেন। তিনি ১০ মণের বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন।

হারুন অর রশিদ নামে এক ক্রেতা জানালেন, সামনে রোজা। ওই সময় এই পেঁয়াজ কমপক্ষে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হবে। এখন প্রতি কেজি ৫ টাকা হওয়ায় তিনি ৩০ কেজি কিনেছেন।

বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ডালিয়া নাসরিন রিক্তা জানান, বেশি কিনলে পঁচে যাবে, তাই তিনি মাত্র ৩ কেজি কিনলেন। পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের সুবিধা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত ওই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি এনামুল হক দুলাল জানান, এবছর ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক আছে। কোনও কোনও ব্যবসায়ীর গুদামে রাখা পেঁয়াজ বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হওয়ায় সেগুলো কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই