মেইন ম্যেনু

বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজারের ২শ জেলে নিখোঁজ

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কক্সবাজারের ২শ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব জেলে পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

সোমবার রাতে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নৌবাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। অন্যদিকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকেও অবগত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড ১২ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আলি হোসেন।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পরই নৌবাহিনী সদর দপ্তর, কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক কমান্ডার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জেলেদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সাগরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, নৌবাহিনীর সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, সাগরে ভাসমান অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ জেলেকে চট্টগ্রাম উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখান থেকে চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয়া হবে। বোটমালিক ও জেলে প্রতিনিধির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ৫ ট্রলারের ১৩০ জন জেলে নিখোঁজের তালিকা পাওয়া গেছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে আরো নিখোঁজ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বোট মালিকদের ধারণা, জেলেরা ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র কবলে পড়েছিলেন। নিখোঁজরা ছয়টি ফিশিং ট্রলারের মাঝিমাল্লা। তাদের বাড়ি শহরের সমিতিপাড়া, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়া উপজেলায়।

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসআই আকতার কামাল বলেন, ২ নভেম্বর ভোরে সমিতিপাড়া থেকে একযোগে চারটি ফিশিং ট্রলারে করে প্রায় ১৫০ জন মাঝিমাল্লা সাগরে মাছ ধরতে যায়। ওই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনের সোনারচরের অদূরে ট্রলারগুলো বিকল হয়। এসময় অন্যান্য জেলেরা তাদের উদ্ধারে সাহস করেনি বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা জেলেরা।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতি সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র কবলে পড়ে শহরের সমিতিপাড়া এলাকার মো. আতিক উল্লাহর মালিকাধীন এফবি শাহমজিদিয়া, একই এলাকার মো. ফারুকের মালিকাধীন জাইস উদ্দিন, জাকের উল্লাহর মালিকাধীন এফবি ফাতেমা, মো. কামালের মালিকাধীন এফবি সাজ্জাদ, এন্ডারসন সড়ক এলাকার আবুল হোসেনের মালিকাধীন এফবি রেশমি। প্রতিটি ট্রলারে ৩০ জন করে মাঝিমাল্লা ছিল। এরমধ্যে এফবি শাহমজিদিয়াতে ছিল ২৮ জন। এছাড়া ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে নিখোঁজ রয়েছে আবুল ফজলের মালিকাধীন এফবি হাসান।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পাওয়ায় কূলে ফিরে আসতে গিয়ে গত রোববার (৬ নভেম্বর) সাগরে ডুবে যায় শহরের সমিতি পাড়া এলাকার নুরউদ্দিনের মালিকাধীন এফবি আল্লামালিক। এ ঘটনায় ২৫ জনকে অন্যান্য জেলেরা উদ্ধার করে কূলে নিয়ে আসলেও এখনো সাগরে নিখোঁজ রয়েছে দুই জেলে।

নিখোঁজ বোটের মালিক নুরউদ্দিন বলেন, কূলে ফিরে আসার সময় কক্সবাজার উপকূল থেকে ৫ ঘণ্টার পথের দূরত্বে বঙ্গোপসাগরের ‘সাতবান পানি’ এলাকায় ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই ট্রলারে মাঝিমাল্লা ছিল ২৯ জন। এসময় ফিরে আসা অন্যান্য বোটের জেলেরা মাঝিসহ ২৫ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। কিন্তু সাগরে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ট্রলারের ড্রাইভার নজুমিয়া (৪৫) ও আর একজন জেলে।

নিখোঁজ নজুমিয়ার বাড়ি সমিতিপাড়া এলাকায়। আর এক জেলের নাম বোটের মাঝিও জানেনা। তিনি নতুন এসেছিলেন। তার বয়স প্রায় ২২ বছর। তবে তাঁর বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে শুনেছি।

তিনি আরো বলেন, নিখোঁজের তিনদিনেও ফিশিংবোট ও দুই জেলের কোনো হদিস মেলেনি। তাদের উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ মাঝি মাল্লাদের দ্রুত উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেন, সোমবার রাতে হদিসবিহীন ছয়টি ট্রলারের নাম উল্লেখ করে ১৩১ জন জেলে নিখোঁজের একটি তালিকা মৎস্য অধিদফতরে পাঠানো হয়। সেখানে নিখোঁজদের সন্ধানের জন্য নৌবাহিনীকে অনুরোধ করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাগরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই