মেইন ম্যেনু

বছরের সেরা আতঙ্ক ‘হোভারবোর্ড’!

প্রযুক্তি পণ্যের উদ্ভাবন মানুষের জীবন সহজ করলেও কখনো সখনো অস্বস্তিতেও ফেলে দেয়। এই যেমন হোভারবোর্ডের কথাই ধরা যাক। ২০১৫ সালে যতগুলো উদ্ভাবন হয়েছে তার মধ্যে প্রথম সাঁরিতে রয়েছে হোভারবোর্ড। স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে এই যন্ত্রটি প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু এই হোভারবোর্ড বাজারে আসতে না আসতেই এর দূর্নাম ছড়িয়েছে। রীতিমতো টেকিপ্রজন্মের তরুণদের কাছে আতঙ্ককের নাম হয়েছে দাঁড়িয়েছে হোভারবোর্ড। কিন্তু কেনো?

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে হোভারবোর্ড চালানোর সময় বাসের সঙ্গে ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৫ বছরের এক কিশোর। ম্যাশেবল এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে লন্ডনের নর্থওয়েস্টে।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোর সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই ঐ কিশোরের মৃত্যু হয়।

হোভারবোর্ড ক্রিসমাসে বিক্রিত পণ্যের চাহিদার তালিকায় শীর্ষে ছিল। যদিও যুক্তরাজ্যে এই যানটি প্রধান সড়কে এবং ফুটপাতে হোভারবোর্ড চালানো নিষিদ্ধ। কারণ এই যানটি লাইসেন্স অথবা নিবন্ধন করা নয় বলে জানিয়েছে মেট পুলিশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত হোভারবোর্ড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় বসবাসরত হোভারবোর্ড ব্যবহারকারী টিমোথি কেড বলেছেন সে হোভারবোর্ডটা সে অ্যামাজন থেকে কিনেছিলেন। সে এটি চালানো শুরু করার পর ১০০ফিট পথ পাড়ি দিতে না দিতেই হঠাৎ করে হোভারবোর্ডটিতে আগুন ধরে যায়।

আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে কেড তার মোবাইল ফোন দিয়ে হোভারবোর্ড পুড়ে যাওয়ার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। প্রাথমিকভাবে বেকিং সোডার সঙ্গে পুড়ে যাওয়ার পর ব্যাটারি প্যাকটা বের হয়ে আসে এবং ব্যাটারি গুলোর বিস্ফোরণ হয়।

অন্যদিকে নিরাপত্তা ক্রুটির কারণে ১৫ হাজার হোভার বোর্ড বাজেয়াক্ত করেছে বিট্রিশ সরকার। এসব হোভার বোর্ডে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।

ম্যাশেবল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা এই ১৫ হাজার হোভারবোর্ড অন্য দেশ থেকে আমদানী করা হয়েছিল। কিন্তু এগুলো বেসিক সেফটি চেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাই এগুলোকে বাজেয়াপ্ত করে দেশটির পোর্টস অ্যান্ড বর্ডারস অর্থোরিটি।

হাইওয়ে অ্যাক্ট ১৮৩৫ এর ৭২ ধারা অনুসারে যুক্তরাজ্যে হোভার চালানো আইনের লংঘন। একই কথা বলা আছে স্কটল্যান্ডের রোডস অ্যাক্টের ১২৯(৫) ধারায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত দ্য জিওর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ১ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হোভারবোর্ড ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আগুনজনিত নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধ পদ্ধতির কারণে নিষিদ্ধ ব্যবহৃত বস্তুর মধ্যে রাখা হয়েছে হোভারবোর্ডকে। যারা ইতোমধ্যে হোভারবোর্ড কিনেছে তাদেরকে শীতকালীন বন্ধের পর ক্যাম্পাসে না আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রিস্ক ম্যানেজম্যান্ট অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের সহ-সভাপতির সহকারি ফিটজোরি স্মিথ, প্রোভোষ্ট এবং ডিন অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স পিটার্স কনওয়ারস্কি ও সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ভাইচ প্রেসিডেন্ট ফর সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ড্যারেল ডার্নেল উক্ত নোটিশ জারি করেন।

হোভারবোর্ড বিক্রিতে শীর্ষে থাকা অ্যামাজন ডটকম থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে হোভারবোর্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে হোভারবোর্ড বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোভারবোর্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেগওয়ে।

এছাড়া, বিভিন্ন দেশের বিমান বন্দর, রেল স্টেশনে হোভারবোর্ডের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব কারণে হোভারবোর্ড এখন রীতিমতো আতঙ্কের নাম।






মন্তব্য চালু নেই