মেইন ম্যেনু

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরীর প্রধান সড়কগুলোর কোথাও কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরপানিতে থইথই করছে। শনিবার ঈদের দিন ভোর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বর্ষণ এবং সড়কের জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে যানবাহন চলাচলও অনেকটা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার গভীর রাতে নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা এবং বায়েজিদ বোস্তামীর আমিন কলোনি এলাকায় পাহাড় ও দেয়াল ধসে পাঁচ শিশুসহ মারা গেছে ছয়জন। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামে আরো ভয়াবহ পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বাদুড়তলা, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক কোমরপানিতে তলিয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ রয়েছে।

রোববারও সারা দিন চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন কাজে বের হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।এ ছাড়া ঈদ আনন্দ উপভোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী। তবে নগরীর রাজপথে ময়লা জলে পা ডুবিয়ে অনেক তরুণকেই আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে।চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম রাইজিংবিডিকে জানান, তার বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।এ ছাড়া পুরো চকবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরপানি জমে গেছে।

শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই নগরীর কাপাসগোলা চকবাজার এলাকা কোমরপানিতে তলিয়ে যায়। রোববার সকাল পর্যন্ত এই এলাকার অধিকাংশ ভবনের নিচতলা পানিতে ডুবে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে এই এলাকার অধিবাসীরা।

জানা গেছে, নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বাড়াইপাড়া, বাদুড়তলা, ঘাসিয়ারপাড়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, চানমিয়া সওদাগর রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর আবাসিক এলাকা, হালিশহর জেলেপাড়া, পাঠানটুলি, বাকলিয়া, ডিসি রোডসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা মূল সড়ক ও উপ-সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। এসব এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজারে জলাবদ্ধতা ডিঙিয়ে চলতে গিয়ে সড়কে অনেক যানবাহন বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে যানজটও সৃষ্টি হয়।






মন্তব্য চালু নেই