মেইন ম্যেনু

বন্ধনে অটুট রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: কিবোর্ডের খট খট শব্দ। মৃদু গানের সুর। মনোযোগ শুধু মনিটরের স্ক্রিনে। যে যার মতো লেখালেখিতে ব্যস্ত। ক্যাম্পাসের প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে যাদের কলম। বলছিলাম তাদের কথা। বন্ধনে অটুট একটি সংগঠন যার নাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি।

২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর যার পথ চলা শুরু হয় মিডিয়া চত্ত্বরের গাছ তলায়। ধীরে ধীরে নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আজ তারা সফলতার শীর্ষে। বর্তমানে সংগঠনটিতে পঁয়ত্রিশজন সদস্য রয়েছে যাদের বেশীরভাগই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। সংগঠনটি যেন একটি পরিবার।

একসাথে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে তাদের মধ্যে চলে খুঁনসুটি। এমনই এক শ্রাবণের বিকেলে ক্যারাম খেলায় ব্যস্ত সভাপতি শহিদুল ইসলামের টিম বনাম ২য় বর্ষের ফরিদের টিম। শুরুতেই, শহিদুল ভাই আজকে কিন্তু আপনাকে শূূন্যতে গেম দিব, বলল ফরিদ। হাসিমুখে শহিদুল ভাইয়ের উত্তর শূন্যতে গেম দিতে পারলে তুই আজকে চা খাওয়াবি সবাইকে। অবশেষে পরিকল্পনা মাফিক শূন্যেই হেরে যান শহিদুল ভাই।

হাসি আর আনন্দে কেটে যায় সারাটা দিন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বেশী, এগারো জন। আর তাদের মধ্যে বন্ধনের মাত্রাটা একটু বেশীই প্রবল। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে খেলার ছলে তৈরি করে নিয়েছে একটি কমিটি। ক্যাম্পাসে তো তারা স্টার গ্রুপ নামে পরিচিত।

কীভাবে এই বন্ধন গড়ে উঠেছে জিজ্ঞাসা করলে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী ভাদুড়ী বলেন, প্রকৃতপক্ষে এখানে পরস্পরের মধ্যে সুখ, দুঃখের কথা ভাগাভাগি করা হয়। এভাবে নিজেদের কথা ভাগাভাগির মাধ্যমে এক ধরনের আত্মার বন্ধন গড়ে উঠেছে। বিপদে আপদে একে অপরের পাশাপাশি থাকার মধ্য দিয়ে সংগঠনটাই মায়ার জালে জড়িয়ে পড়েছে।

কীভাবে সংগঠনের শৃক্সক্ষলা বজায় রাখেন প্রশ্ন করলে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আসলে রিপোর্টার্স ইউনিটি একটি পরিবার। একটি পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে যেমন আন্তরিকতা, ভালোবাসা থাকে।

এই পরিবারটিও ঠিক সেই রকমই। এখানে ছোট-বড় সবাই সবার প্রতি খুব আন্তরিক। যে যার জায়গা থেকে নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলে। যা আমাদের কাজের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

ক্যাম্পাসে এতো সংগঠন থাকতে কেন এই সংগঠনে যোগ দিলেন? প্রশ্ন করলে আরাফাত রহমান বলেন, এই সংগঠনে আমাদের বিভাগের বড় ভাই বোনের সংখ্যাটা বেশি। আর তারা খুবই আন্তরিক। আমাদের হাতে কলমে শেখায় কীভাবে সাংবাদিকতা করতে হয়। মূলত আন্তরিকতাই আমাকে এই সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করে।

শুধুমাত্র সাংবাদিকতায় নয় বিভাগের পড়ালেখায়ও তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি।






মন্তব্য চালু নেই