মেইন ম্যেনু

বন্ধুত্বের কিছু অবাক করা ধরণ

কিচ্ছু না থাকলেও বন্ধু থাকলে চলে, আবার সব থাকলেও বন্ধু না থাকলে চলে না। বন্ধুত্ব তো এমনই। কিন্তু সব সম্পর্ক যেমন এক নয় তেমনি সব বন্ধুত্বও এক রকম নয়। বন্ধুত্বের শুরু শৈশবেই। কিন্তু পরিণত বয়সে এসে নানা রকম বন্ধুতার অভিজ্ঞতা হয় আমাদের।

আসুন জেনে নেই বন্ধুত্বের কিছু অবাক করা ধরণঃ

বিনি সুতোর মালায় গাঁথাঃ

শৈশবে কখন যে এই সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তা আজ আর মনে নেই। জীবনের দীর্ঘপথ একত্রে পাড়ি দিয়েছেন। হাত ধরাধরি করে পার হয়েছেন নানা ঝড়-ঝাপটা। হেসেছেন, কেঁদেছেন, ভালোবেসেছেন পরস্পরকে। এ ভালোবাসায় যেন ভালোবাসার অধিক কোনো চাওয়াপাওয়া নেই। এদের একের প্রতি অন্যের টান এতটাই গভীর যে, অনেক সময়ই হয়তো দুজনেরই জীবনসঙ্গীর চেয়েও এদের নিজেদের সম্পর্কটাই অনেক বেশি গভীর।

বন্ধু তুমি শত্রু তুমিঃ

‘ফ্রেন্ড’ আর ‘এনিমি’, দুইয়ে মিলে ‘ফ্রেনিমি’। এরা সেই বন্ধু যাদের প্রতি ভালোবাসা আর এক রকম ঘৃণা যেন মিলেমিশে থাকে। অনেকটা পথ পেরিয়ে দুজনেরই মনের খাতায় লেখা আছে অম্ল-মধুর নানা ইতিহাস। তাঁর প্রতি আছে গভীর টান, আছে মমতাও। কিন্তু কোথায় যেন আছে একটা গোপন হিংসা-দ্বেষও। আপনিও জানেন আর সেও জানেন, এমনিতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হয়তো যেকোনো সময় এক ধাক্কাতেই আলগা হয়ে যেতে পারে এই সম্পর্কের ভিত।

না প্রেম না বন্ধুতাঃ

প্রেমিক-প্রেমিকা নাকি কেবলই বন্ধু? আসলে হয়তো দুটোই। কলেজের দিনগুলোতেই কি এমনটা শুরু হয়েছিল নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রেখে সেটা বলাটা কঠিন। সারাক্ষণই তো দুজনে একসঙ্গে। কার দিক থেকে কে কবে বন্ধুতার বেশি কিছু চেয়েছিল কিংবা কে কবে থেকে মনে মনে এমন কিছু ভাবছিল সেটাও যেন স্পষ্ট নয়। কিন্তু একটা বিষয় এখন দুজনের কাছেই স্পষ্ট। দুজনেই জেনে গেছেন প্রেমের টান যতই থাকুক সম্পর্কটা আসলে কোনো দিনই ভালোবাসার গণ্ডি পেরোবে না!

কেবলই ইন্টারনেট বন্ধুঃ

সাইবার জগৎ তো আসলে একটা আলাদা জগৎই! সেখানেও আলাদা নিয়মকানুন আছে, আছে হাসি-কান্না-বন্ধুত্বের নানা ধরনও। বিষয়টাকে হালকা করে দেখারও কিছু নেই। সব হারিয়ে একেবারেই হাল ছেড়ে দেওয়ার দিনগুলোতে সেই তো আপনাকে নতুন করে বাঁচার আশা জুগিয়েছিল! রাত জেগে জেগে চ্যাট করা, দীর্ঘ মেসেজে মনের কথা খুলে বলা। পরস্পরকে জেনে নেওয়া। সামনাসামনি দেখা না হোক, কথা না হোক, সাত-সমুদ্র তেরো নদীর পাড় থেকেও তো কেউ না কেউ কারও হাতখানি ধরতেই পারে, হোক না সে অন্তর্জলেই।

ভাবের বন্ধু লাভের বন্ধুঃ

তাঁর সঙ্গে ভাব হয়েছে, লাভ হয়েছে। হালফিলের এই বন্ধুতার মোদ্দা কথা যেন এটাই। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট’। দুজনেরই জানা আছে এ বন্ধুতায় কোথায় কতটা লাভ-ক্ষতি। কে কতটা ছাড় দেবেন আর কে কতটা ছাড় নেবেন। বিষয়গুলো খোলামেলা আলোচনায় আগে থেকে বলে কয়ে নেওয়া না হলেও আজকাল সবাই-ই তো স্মার্ট। ফলে এই সম্পর্ক অনেকটাই কেজো বন্ধুত্বের, দেওয়ার আর নেওয়ার।

পুরনো দিনের সেই বন্ধুঃ

এতগুলো বছর পেরিয়ে আজ আর তাঁকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সেই কবে কোন কালে আপনারা বন্ধু হয়েছিলেন। ঘনিষ্ঠতম হয়তো কোনো দিনই ছিলেন না, কিন্তু আপনাদের সবকিছুতেই তো তিনিও ছিলেন। ছেলেবেলায় বুঝতে না পারলেও এখন জানেন, এই সময়ে দেখা হলে হয়তো তাঁর সঙ্গে বন্ধু হওয়াই সম্ভব হতো না। কিন্তু দোষ-গুণ সব মিলিয়েই তো বন্ধু। আর পুরনো সেই সব দিনের সেই সব স্মৃতিগুলোকে জীবন থেকে বাদই বা দেবেন কীভাবে। অতএব বন্ধু তো বন্ধুই, তা সে যেমনই হোক।

ঘর না বাঁধা ঘরের বন্ধুঃ

আপনি গভীরভাবে তাঁর প্রেমে মজে আছেন। তিনিও আপনাকে ভালোবাসেন। কিন্তু সেটা তাঁর মতো করেই। আপনিও জানেন আর সেও জানে যে, জুটি বাঁধলে আপনাদের দুজনকে সত্যিই দারুণ মানাবে। কিন্তু আপনার মতো দিওয়ানা মজনুর লাইলি তিনি হতে চান না। বিপত্তিটা এখানেই। কিন্তু মানসিকভাবে আপনি কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারছেন না। আবার দুজনের বন্ধুত্ব এতটাই প্রবল যে, তিনিও এই বন্ধুত্ব থেকে বেরিয়ে যেতে পারছেন না। আসলে এই বন্ধুত্ব থেকে ঘর বাঁধা যেমন সম্ভব না তেমনি বন্ধুতার এই ঘরখানি ভেঙে ফেলাও সম্ভব না।






মন্তব্য চালু নেই