মেইন ম্যেনু

বন্ধুর কষ্ট দূর করতে বউদান!

জগতে কতকিছুই না দান করা হয়। বাড়ি-গাড়ি, ধন-সম্পদ আরো কতকিছু। রক্তের সম্পর্কের স্বজনদের মধ্যে এসব দান করা হয় হরহামেশাই। খুব কাছের কোনো বন্ধুকে এমন দানধ্যান করা কদাচিৎ হয়তো দেখা যায়। কিন্তু তাই বলে বন্ধুর কষ্ট মোচনে নিজের বিয়ে করা বউকে দান করে দেয়ার ঘটনা অবাক করেই বটে। হ্যা, এমনই অবাক করা ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা কাজী অফিসে।

বন্ধুর দুঃখে দুঃখী হয়ে নিজের বউকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়েছেন ফরমান আলী ওরফে বৈজ্ঞানিক (৫২) নামের এক ব্যক্তি। ২০ হাজার টাকা কাবিননামা সাব্যস্ত করে চারজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওই বিয়ে পড়ানো হয়।

ফরমান আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেতুন বেগম (৩২) গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কাজী অফিসে তার স্বামীর বন্ধু মাসুক মিয়াকে (৩৭) স্বামী হিসেবে বরণ করে নেন। রাতেই মাসুক মিয়া তার নতুন বউকে নিয়ে জয়পাশায় তার নিজ বাড়িতে ওঠেন।

ফরমান আলী কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া বস্তির বাসিন্দা ও একজন নার্সারী মালিক। আর মাসুক মিয়া হবিগঞ্জের মনতলার বাসিন্দা হলেও কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন রিকশা চালক।

স্থানীয়রা জানান, মাসুক মিয়ার সঙ্গে ফরমান আলীর দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিছুদিন আগে মাসুক মিয়ার স্ত্রী তিন মেয়ে আর এক ছেলে রেখে পরকীয়া প্রেমের টানে উধাও হয়ে যায়। ছেলে-মেয়েসহ বন্ধুকে একা করে বউয়ের চলে যাওয়া ফরমান আলীর মনে দাগ কাটে। তার ঘরে দুই বউ থাকায় তিনি পরিকল্পনা করেন বন্ধুকে উপহার স্বরূপ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে দেবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তার পরিকল্পনার কথা জেনে খুশিই হন মাসুক মিয়া।

এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেতুন বেগমকে নিয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে কাজী অফিসে গিয়ে উপস্থিত হন ফরমান আলী। সেখানে তিনি নূরেতুনকে তালাক দেন। একই সময়ে চারজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে বন্ধু মাসুক মিয়ার সঙ্গে নূরেতুন বেগমের বিয়ে দিয়ে দেন। নতুন বউকে নিয়ে মাসুক মিয়া রাতেই তার বাড়ি গিয়ে ওঠেন। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কাজী রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই