মেইন ম্যেনু

বন্ধ হবে কি ‘শম্পার’ বিয়ে?

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের শিশু কন্যা শম্পা খাতুনকে আইন অমান্য করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি।

সংসার বোঝার বয়স না হলেও তাকে বিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার তার গায়ে হলুদ হয়েছে, আজ শুক্রবার তার বিয়ে হওয়ার কথা।

পাশের গ্রামের সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে শম্পা। এ বিয়ের বিষয়ে জানাজানি হলে এ প্রতিনিধি শম্পার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।

শম্পার বাবা মো. আলাউদ্দিন প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে বলেন, ‘গরিব মানুষ, কী করব মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে? তাই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি।’

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, শম্পার বিয়ে বন্ধে ইতিমধ্যে কুমারখালী ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার বলেন, ‘শিশু শম্পার বিয়ের খবর আমরা পেয়েছি। শুক্রবার বিয়ে বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে কোনোমতেই বাল্যবিয়ে হবে না। এ বিয়ে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এ বিয়ে হতে দেওয়া হবে না।’

সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশীদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শম্পা আমাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী। তার বিয়ের খবর পাওয়ামাত্র আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিয়ে বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি।’

স্থানীয়রা জানান, একই এলাকার ফজু মাঝির ছেলে নাজমুলের সঙ্গে শুক্রবার বিয়ে হবে শম্পার।

শম্পার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বিয়েতে তার মত নেই। তবু তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শম্পার সহপাঠীরা এ বিয়ে বন্ধে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।






মন্তব্য চালু নেই