মেইন ম্যেনু

বরিশালে শিক্ষার্থীদের কাছে বাসা ভাড়া দিতে বাড়ির মালিকদের আপত্তি

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল : সরকারি বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে কোনভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না। বরং জড়িতরা দলীয়ভাবে পদন্নোতী পাওয়ায় ক্রমেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে ছাত্রাবাস আর মেস বাড়িতে হামলা ও সংঘর্ষ এখন নিত্য-নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় এখন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের কাছে মেস বাসা ভাড়া দিতে চান না কোন বাড়ির মালিকেরা।

সূত্রমতে, গত ছয় বছর পূর্বে (২০১০ সালের মে মাসে) পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে রক্তের হলি খেলায় মেতে উঠেছিল ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ। সহিংসতার এ দৃশ্য এতই ভয়াবহ ছিল যে তা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারের পর খোঁদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। সেই সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরে সেখানকার ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএম কলেজ শাখার তৎকালীন যুগ্ম-আহবায়ক মঈন তুষার ও জসিম উদ্দিনকে বহিস্কার করা হয়েছিলো। একই সাথে পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ পেয়ে স্থানীয় পুলিশ পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালিন সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে। তাদেরকে কলেজ অধ্যক্ষ মীর মোশারেফ হোসেনের দায়েরকৃত মামলায় আসামি করা হয়েছিলো। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তখন বেরিয়ে আসে মহানগর ছাত্রলীগের একজন যুগ্ম-আহবায়কের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্ত সে পথে আর বেশি দূর যায়নি পুলিশ। শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের খুশি রাখতে সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। সূত্রে আরও জানা গেছে, শুধু ক্ষমা নয়, পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন ওই হামলার সাথে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা। পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বহিস্কৃত জসিম উদ্দিন হয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি। আর বিএম কলেজের যুগ্ম-আহবায়কের পদ থেকে বহিস্কৃত মঈন তুষার হয়েছেন বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচন ছাড়া ভিপি।

সূত্রে আরও জানা গেছে, পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বার বার তারা পুরস্কৃত হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালের ৪ মে ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরানোর জন্য অভিযুক্তরা মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে পরের বছর জানুয়ারি মাসে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হন। সে সময় পুলিশ লোক দেখানোভাবে সংঘাত থামানোর চেষ্টা করে। পরে তাদের বুঝিয়ে এলাকা ছাড়া করে। এরপর থেকে যতোবার ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঘাতে জড়িয়েছে ততোবারই পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে তামাশা দেখেছে। গত মাসেও বড় ধরনের হামলা হয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি মেস বাড়িতে। তেমনই একটি হামলায় গত ২৭ মে রাতে ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা নিহত হন। ওই হামলায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন আরও দু’জন। পঙ্গু হওয়ার পথে রয়েছেন আরও তিন ছাত্রলীগ নেতা। এ ঘটনার পর পরই নিহত রেজার অনুসারিরা পলিটেকনিকের সামনের হামলাকারী মেহেদীর বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই