মেইন ম্যেনু

বরিশালে ১ মণ ধানে ১ কেজি মাংস!

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল: বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে ধানের দরপতন হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের চাষীরা এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি মাংসও ক্রয় করতে পারছেন না। ফলে ক্রমেই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বোরো চাষীরা।

এ অঞ্চলে ধান চাষে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লেও বাজারে তেমন মূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫’শ টাকা।

অপরদিকে বাজারে প্রতি কেজি গো-মাংস ৪’শ টাকা দরে বিক্রি হলেও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬’শ টাকায়।

এ কারণে কৃষকেরা এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গো-মাংস কিনতে পারলেও এক কেজি খাসির মাংস ক্রয় করতে পারছেন না।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, বরিশালে এবার বোরো মৌসুমে ৫১ হাজার ৬২৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যারমধ্যে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে, উফশী জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ৯৭৯ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫১৪ হেক্টর জমিতে। চলতি বোরো মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ফলন ধরা হয়েছে হাইব্রিড ৪.৯৫ মেট্রিকটন, উফশী ৩.৮৫ মেট্রিকটন এবং স্থানীয় ১.৭৫ মেট্রিকটন।

এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বড় ধরনের কোনো রোগবালাই ছাড়াই বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বরিশালের একাধিক চাষীরা জানান, সব মিলিয়ে মণপ্রতি ধানের আবাদে খরচ পড়েছে ৩’শ থেকে সাড়ে তিন’শ টাকা পর্যন্ত।

কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ধানের দাম উঠেছে ৪৫০ থেকে ৫’শ টাকা। ফলে তেমন কোনো মুনাফা হচ্ছে না।

মাংস বিক্রেতারা জানান, গো-খাদ্য সংকট, খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি ও গবাদি পশু আমদানি না হওয়ায় গবাদি পশুর মূল্য অনেক বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই