মেইন ম্যেনু

বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ওএসডি করার পরেও বহাল তবিয়তে

দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ওএসডি করার দু’সপ্তাহ পরেও বহাল তবিয়তে দাপ্তরিক কাজ করছেন বরিশাল গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন। এনিয়ে ভূক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভুইঞা এবং তত্ত্বাকধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সারওয়ার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. জাকির হেসেনকে জনস্বার্থে বদলিপূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাকে প্রধান দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে পদায়ন করা হল। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হক বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে ওএসডি করার আদেশ বরিশালে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে ওএসডি করা হল তা তার জানা নেই। গণপূর্ত অধিদফতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত, ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি, নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মাঝে কাজ বন্টন, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ না করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও নিজের ইচ্ছেমতো বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের গেট ভেঙ্গে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন স্থাপনা তৈরীর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স¯প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভবন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে বরিশালের একটি আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

ওই মামলার বাদী ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম তার এজাহারে উল্লেখ করেন, ২৪ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৪ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভবন নির্মানে নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের যোগসাজসে ঠিকাদার ও তার লোকজনে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে নিন্মমানের নির্মান সাগ্রগী ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য আদালতের বিচারক মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, গণপূর্তের ওএসডি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কৌশলে পরোক্ষভাবে অসংখ্য কাজ নিজেই করেছেন। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। তার এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় চুন্নু নামের একজন ঠিকাদারের ওপর হামলাও করিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন।

এছাড়াও তার বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে চারজন কর্মচারীকে বদলি করিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদে নগরীতে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, কর্মচারী ইউনিয়নের রেজুলেশনসহ নানা কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে জাকির হোসেনের দুর্নীতির ফিরিস্তি জনসম্মুখে তুলে ধরা হয়।

সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, একারণেই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশে জাকির হোসেনকে ঢাকায় ওএসডি করা হলে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তিনি (জাকির হোসেন) এখনো বরিশালে বহাল তবিয়তে থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওএসডি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ ঠিকাদাররা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ এনে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।






মন্তব্য চালু নেই