মেইন ম্যেনু

বর্ণবিদ্বেষ ঝেড়ে ফেলে ঐক্যের আহ্বান ওবামার

মার্কিন সমাজে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। দেশটির ইতিহাসের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য আর তাদের ওপর নিপীড়নের কাহিনী। বিভাজনটা বহু পুরনো। তবে এই বিভাজনের কাছে হার মানবে না মার্কিনিরা- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ প্রাক্তন দুই প্রেসিডেন্ট।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে এই বার্তা দিলেন তারা। ওবামা স্বীকার করেছেন যে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড শুধু কোনো ‘বিকৃত হিংসা’ নয়; বরং তা নিশ্চিতভাবেই ‘বর্ণবিদ্বেষ’। তবে এসব ঘটনা মার্কিন গণতন্ত্র এবং গ্রহণের সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বৈচিত্রের উদাহরণ টেনে ওবামা বলেন, ‘মার্কিনরা যখন তাদের সন্তানকে দেশের ইতিহাসের কথা বলেন তখন সেটা বৈচিত্রের ইতিহাস। সেখানে নানা বর্ণ, নানা জাতির মানুষের কথা থাকে। সেই ঐতিহ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখানে এটাই বলতে এসেছি যে এমন হতাশা আমাদের বর্জন করতে হবে। আমি জোর দিয়ে বলছি, আমাদের যতটা বিভক্ত বলে মনে হচ্ছে আমরা তা নই। এ কথা বলতে পারছি কারণ আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জানি।’

ওবামা মঙ্গলবার ডালাসে যাওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল, একদিকে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল দৃঢ় করা। অন্যদিকে সংখ্যালঘু এবং বৃহত্তর জনগণকে আশ্বাস দেয়া। ঠিক কী কী কথা তিনি বলবেন, কীভাবে বলবেন- এ নিয়ে সোমবার স্পিচ রাইটারদের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

একদিকে ওবামা পুলিশের বীরত্বের প্রশংসা করলেন। অন্যদিকে সাফ বলে দিলেন, রাজনৈতিকভাবে সঠিক অবস্থানে থাকার অজুহাতে আইন ও বিচার ব্যবস্থায় বর্ণবৈষম্যের প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। পুলিশি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বর্ণবৈষম্যের মধ্যে লড়াইটা কীভাবে অতিক্রম করা যায়, এ নিয়ে মুক্ত বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা।

পরিবর্তনের উপায় খুঁজতে কীভাবে আইনরক্ষক, আন্দোলনকারী এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতাদের এক মঞ্চে আনা যায় এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ দূর করা যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার হোয়াইট হাউজে একটি বৈঠকও ডেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওবামার আগে আর প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশও অবশ্য প্রায় একই কথা বলেছেন।

ওবামা ও বুশ যখন একই আশ্বাসের কথা বলছেন তার কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্তও কিন্তু গত সন্তাহের হিংসার কালোছায়া থেকে বেরোতে পারেনি তাদের দেশ। ধরপাকড় উপেক্ষা করে বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন কৃষ্ণাঙ্গরা। বিক্ষোভরতদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদ্যরা। ডালাসের পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। প্রতিবাদকারীদের প্রতি তার আবেদন, হিংসার রাস্তা ছেড়ে তারা যেন আবারো পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।






মন্তব্য চালু নেই