মেইন ম্যেনু

বর্ষবরণের উৎসবে মেতেছে কক্সবাজার

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটন নগরী কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের পদভারে সরগরম হয়ে উঠছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতটি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সাজানো হয়েছে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউসগুলো। অতিথিদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। হোটেল-মোটেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষবরণের নানা অনুষ্ঠানমালা।

নতুন বছর শুরুর আগেই উৎসবে মেতেছে পর্যটননগরী। বিদায়ী বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সৈকত পাড়ে ভিড় জমিয়েছে লাখ লাখ পর্যটক। শিশু, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

থার্টি ফার্স্ট নাইটকে স্বাগত জানাতে গতকাল শুক্রবার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে উদ্বোধন করা হয়েছে জমকালো ‘মেগা বীচ কার্নিভাল।’ তিন দিনব্যাপী এই কার্নিভালের আয়োজন করে পর্যটন মন্ত্রণালয়। কার্নিভাল শেষ হবে আগামীকাল।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন কার্নিভালে থাকছে নগর বাউল (জেমস) গান। এছাড়া সামিনা চৌধুরী থেকে শুরু করে দেশসেরা অনেক শিল্পী কার্নিভাল মাতাচ্ছেন। বিকাল থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গানের তালে তালে নাচছেন পর্যটকরা।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে সব হোটেল মোটেলগুলোও অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। নতুন করে যেসব পর্যটক ঢুকছেন তাদের হোটেলে সিট পেতে সমস্যা হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। এখানকার পরিবেশ যে এতো সুন্দর আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।

পাশে দাঁড়ানো তার ছোট মেয়ে স্বর্ণা বলেন, এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। আমি অনেক মজা করছি। এখান থেকে যেতে ইচ্ছা করছে না।

রফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছেন এই আনন্দ উপভোগ করতে। তাদের সবার মধ্যে বিরাজ করছে অন্যরকম আমেজ। কেউ পানিতে নেমে আনন্দ করছেন। আবার কেউ মোবাইলে সমুদ্র সৈকতের ছবি ধারণ করছেন।

ঢাকা থেকে এসেছেন রাব্বি নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগ করতে আজ সকালে বন্ধুকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু আগে থেকে হোটেল বুকিং না দেয়ায় সিট পেতে সমস্যা হচ্ছে। তারপরেও এতো মানুষের সঙ্গে আনন্দে সামিল হতে পেরে ভালোই লাগছে।

হোটেল মোটেল ওনার’স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইটে ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছি।

পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী চত্বর থেকে শুরু করে প্রতিটি পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। তাদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আমাদের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সমুদ্র সৈকত ছাড়া জেলা সদরের বাইরের পর্যটন স্পট মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট সাজানো হয়েছে নতুন করে।






মন্তব্য চালু নেই