মেইন ম্যেনু

বর্ষবরণ এলেই মনে পড়ে লোমহর্ষক সেই ঘটনা

গানে গানে চলছিলো বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। মঞ্চের সামনে মানুষের ছুটোছুটি। কালো ধোঁয়ায়আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ৭টি দেহ। মুহূর্তেই থেমে যায় তাদের স্পন্দন। পঙ্গুত্ব বরণ করেন অনেকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ৩জন।

২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে বোমা হামলায় এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিলো রমনা বটমূলে। লোমহর্ষক ওই হামলায় উৎসব মুখর অনুষ্ঠান রুপ নিয়েছিলো বিষাদে। শোকচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলো বাঙালির প্রাণের উৎসব।

রমনা বটমূলের তবলাবাদক এনামুল হক ওমর বলেন, আমি তাকিয়ে রইলাম। দেখলাম গোল একট কুন্ডলী উঠে ছিটকে গেল। মনে হলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমরা স্বব্ধ হয়ে গেলাম। মনে হয় যেন অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম। সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনও পিড়া দেয়।

আজ ভয়াল সেই রমনার বটমূলে বোমা হামলার ঘটনার দিন। পহেলা বৈশাখ আসলেই বাংলাদেশি বাঙ্গালিদের মনের কোণে ভেসে ওঠে রমনার বটমূলে বোমা হামলার বর্বরচিত সেই ঘটনা।

নৃশংস এ ঘটনায় ২ টি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হত্যাজনিত অপরটি বোমা হামলা অর্থাৎ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দায়ের করা মামলা। ২০১৪ সালের ২৩ জুন হত্য মামলার রায় হয়। সেদিন ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ রুহুল আমীন ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ৬ জনকে দোষী করে যাবজ্জীবন সশ্রম করাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামিরা একই।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আরিফ হাসান সুমন ও মওলানা মো. তাজউদ্দিন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মওলানা ইয়াহিয়া, মওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মওলানা আব্দুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল।






মন্তব্য চালু নেই