মেইন ম্যেনু

বাঁচলো না দাফনের সময় নড়ে ওঠা শিশুটি

দাফনের আগে নড়ে ওঠা ফরিদপুরের সেই নবজাতক গালিবা হায়াত বাঁচলো না। রোববার রাতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। স্কয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল সে।

নবজাতকটির বাবা নাজমুল হুদা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তার আফতাব ইউসুফ রাজ বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি ওকে বাঁচানোর জন্য। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তাছাড়া হৃৎপিণ্ড জন্মগতভাবে ফুটো ছিল।

নবজাতকটির বাবা নাজমুল হক বলেন, ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেছেন গালিবাকে বাঁচানোর জন্য। তাদের কোনো গাফিলতি নাই।

তিনি বলেন, তিন দিনের শিশুটি সারা বিশ্বের মানুষের মনে স্থান করে নিল।

এর আগে, শনিবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রবাসী এক বাংলাদেশির সহায়তায় নবজাতকটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা আনা হয়।

২২ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতাল ডা. জাহেদ শিশু মেমোরিয়াল হাসপাতালে জন্ম নেয় নাজমুল হুদা ও নাজনীন আক্তার দম্পতির কন্যা শিশুটি। পরে চিকিৎসকেরা শিশুটিতে মৃত ঘোষণা করে। ভোরে শিশুটিকে দাফন করতে কবরস্থানে নেওয়া হলে দাফনের আগে নড়ে ওঠে।

এদিকে, চিকিৎসকের অবহেলার কারণ খুঁজে বের করতে ফরিদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ঊষা রঞ্জনকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

তবে চিকিৎসকদের অবহেলার দায়ভার কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন ড. জাহেদ শিশু মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. নকুল রঞ্জন সরকার।

তিনি জানান, শিশুটির মা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং ঈদের আগে সে ফরিদপুর আসে। এখানে আসার পর ২১ সেপ্টেম্বর তার অবস্থা খারাপ হয়। রাতে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে গাইনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তারা এই হাসপাতালে আসেন এবং হাসপাতালে রাতে ভর্তির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নেন। বারান্দায় থাকা অবস্থায় ওই মহিলা কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রিজিয়া মহিলার চিকিৎসা দেন। ওই সময় জন্ম নেওয়া শিশুটির পালস ও হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে নবজাতককে ডা. রিজিয়া মৃত ঘোষণা করেননি বলে দাবি করেন ডা. নকুল রঞ্জন সরকার।

তবে এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা নাজমুল হুদা মিঠু জানান, ডা. রিজিয়া আলম মৃত ঘোষণা করার পরই হাসপাতালের নার্সরা একটি কার্টনে ভরে শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলেছিল।






মন্তব্য চালু নেই